শিশুধর্ষণের মামলা বাড়ছে, দুই বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ—বিচার ও প্রতিরোধে জোর
নিজস্ব প্রতিবেদক,পকেট নিউজ | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পুলিশের পরিসংখ্যানে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিশুধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪৮৫টি। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৯৮ এবং ২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে ছিল ৭৫১টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৯৮ শতাংশ।
শুধু মামলার সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, এসব ঘটনার ধরন, ভুক্তভোগীদের বয়স, অভিযুক্তদের সঙ্গে শিশুদের পরিচিতি এবং মামলা পরিচালনার দীর্ঘসূত্রতা—সব মিলিয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, অপরাধের শিকার শিশুদের একটি অংশ পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিবেশী, স্বজন কিংবা বিশ্বাসভাজন মানুষের কাছ থেকেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় মাত্র ২৬ দিনের মধ্যে এবং বিচার শুরুর আট কার্যদিবসের মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় হয়েছে। ঘটনাটি দ্রুত বিচার সম্ভব হওয়ার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
সাত মাসে শিশুধর্ষণের ১ হাজার ৪৮৫ মামলা
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিশুধর্ষণের অভিযোগে ১ হাজার ৪৮৫টি মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে হয়েছিল ৯৯৮টি এবং ২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে ৭৫১টি।
এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়; বরং শিশুদের সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সচেতনতা এবং অপরাধের ঘটনায় দ্রুত আইনগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে আসে।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মোট ১২ হাজার ৪৪৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ৪ হাজার ২৫টি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় ধর্ষণ, ধর্ষণের কারণে মৃত্যু, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, যৌতুকসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে মামলা করার সুযোগ রয়েছে।
পরিচিত মানুষই অনেক ক্ষেত্রে হয়ে উঠছে ঝুঁকি
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সাম্প্রতিক একটি মামলা শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ১১ বছরের একটি শিশু দোকানে ১০০ টাকা ভাঙতি করতে গেলে তাকে বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে ঘটনার ভিডিও দেখিয়ে শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।
সবশেষ গত ১৮ জুন শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে টানাহেঁচড়া করা হলে সে চিৎকার করে দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে মায়ের কাছে ঘটনা জানায়। পরদিন শিশুটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
তবে মামলার তিন মাসেরও বেশি সময় পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফোন ফেলে পালিয়ে গেছেন এবং জব্দ করা ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতা সামনে এনেছে—অনেক ক্ষেত্রে পরিবার সামাজিক চাপ, ভয়, মানসম্মান নিয়ে উদ্বেগ কিংবা অভিযুক্ত পক্ষের প্রভাবের কারণে অভিযোগ করতে দেরি করে। ফলে অপরাধের গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ এবং তদন্ত এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় শিশুধর্ষণের একটি বড় অংশ পরিচিত ব্যক্তি, স্বজন, প্রতিবেশী বা বিশ্বাসভাজন ব্যক্তিদের মাধ্যমে ঘটে। সামাজিক চাপ বা ভয়ের কারণে অনেক পরিবার ঘটনা গোপন রাখার চেষ্টা করে কিংবা অভিযোগ করতে বিলম্ব করে।
সালিসে ধর্ষণের মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ নেই
গফরগাঁওয়ের মামলায় স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসামিপক্ষের লোকজন অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিল।
তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, ধর্ষণের মামলা সালিস বা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য নয়।
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যৌন সহিংসতার ঘটনায় সামাজিকভাবে আপসের চাপ তৈরি হলে ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবার আরও বেশি মানসিক চাপে পড়ে। একই সঙ্গে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের চাপের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় আইনি প্রক্রিয়াকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিচারাধীন মামলার বিশাল চাপ
শিশুধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা বাড়লেও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা বড় উদ্বেগের বিষয়।
উচ্চ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩০ হাজার ৩৬৫।
এই বিপুল বিচারজটের কারণে একটি মামলা দীর্ঘদিন আদালতে চলতে পারে। এতে ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারকে বারবার আদালতে যেতে হয়, সাক্ষ্য দিতে হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়।
ফলে শুধু নতুন মামলা গ্রহণ বা আসামি গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; তদন্ত, অভিযোগপত্র, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং রায়—প্রতিটি ধাপ দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন।
দ্রুত বিচার সম্ভব—চট্টগ্রামের ঘটনা দৃষ্টান্ত
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় দ্রুত রায় হয়েছে। মামলার ২৬ দিনের মাথায় এবং বিচার শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মধ্যে আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে শিশুধর্ষণকে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এ ধরনের অপরাধ শিশুর শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি তার মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
এই মামলায় দ্রুত তদন্ত, দ্রুত অভিযোগপত্র এবং দ্রুত বিচার—তিনটি ধাপ তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের বিচারজটের মধ্যেও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কিছু মামলায় দ্রুত বিচার সম্ভব—এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।
আলোচিত মামলাগুলোও সামনে আনছে একই সংকট
শিশুধর্ষণ ও হত্যার কয়েকটি আলোচিত মামলা সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। মাগুরার আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিল নিয়ে হাইকোর্টে শুনানি হয়েছে।
অন্যদিকে সিলেটে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার আসামিকে আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেও আদালত এলাকায় আসামির ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এসব ঘটনা দেখিয়ে দেয়, শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল মামলায় শুধু বিচার দ্রুত করাই নয়, বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখাও জরুরি। অপরাধের অভিযোগ উঠলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই; তদন্ত ও বিচার হতে হবে আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায়।
২০২৪ ও ২০২৫ সালের পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যে ২০২৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মোট ২১ হাজার ৯৩৯টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে ধর্ষণের মামলা ছিল ৭ হাজার ৬৮টি। শিশুধর্ষণের মামলা ছিল ১ হাজার ৮৯৭টি।
২০২৪ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৭১টি। এর মধ্যে ধর্ষণের মামলা ছিল ৫ হাজার ৫৬৬টি এবং শিশুধর্ষণের মামলা ১ হাজার ২১৯টি।
অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে শিশুধর্ষণের মামলার সংখ্যায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যদিও মামলা বাড়ার অর্থ সব ক্ষেত্রেই অপরাধের প্রকৃত সংখ্যা একই অনুপাতে বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি টানা যায় না। অভিযোগ জানানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, আইনগত সচেতনতা বাড়া এবং আগে গোপন থাকা ঘটনা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার বিষয়ও পরিসংখ্যানকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে সামগ্রিক প্রবণতা শিশু সুরক্ষা নিয়ে সতর্ক হওয়ার যথেষ্ট কারণ তৈরি করছে।
পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়—সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নিরাপদ ও অনিরাপদ স্পর্শের পার্থক্য, অস্বস্তিকর আচরণ সম্পর্কে জানানো এবং কোনো ঘটনা ঘটলে নির্ভয়ে অভিভাবক বা বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে জানানোর পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরও শিশুর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, ভয়, আতঙ্ক বা নির্দিষ্ট কারও উপস্থিতিতে অস্বস্তির মতো সংকেতগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
অপরাধ দমনে প্রয়োজন দ্রুততা ও সমন্বয়
পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীবান্ধব পরিবেশে সাক্ষ্য গ্রহণ, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনসহ সমাজের সম্মিলিত সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
শিশুধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত, ডিজিটাল ও শারীরিক আলামত সংরক্ষণ, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া এবং দ্রুত বিচার—প্রতিটি ধাপকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভুক্তভোগী শিশুকে যেন কোনোভাবেই অপরাধের জন্য দায়ী করা না হয়। তার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এবং গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।
শেষ কথা
শিশুধর্ষণের মামলা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার সামনে একটি বড় সতর্কবার্তা। আইন রয়েছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, দ্রুত বিচারের সুযোগও রয়েছে। কিন্তু আইনের কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে তদন্ত কতটা দ্রুত ও নিরপেক্ষ হচ্ছে, অপরাধী কত দ্রুত আইনের আওতায় আসছে এবং বিচার কতটা সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে তার ওপর।
চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক দ্রুত রায় দেখিয়েছে, কার্যকর তদন্ত ও সমন্বিত বিচারপ্রক্রিয়া থাকলে দীর্ঘসূত্রতা কমানো সম্ভব।
অন্যদিকে বিচারাধীন মামলার বিশাল সংখ্যা মনে করিয়ে দিচ্ছে, বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি দ্রুত রায় যথেষ্ট নয়। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে প্রতিরোধ, সচেতনতা, দ্রুত তদন্ত, ভুক্তভোগীবান্ধব বিচারব্যবস্থা এবং অপরাধীর শাস্তি—সবকিছুকে একই ধারাবাহিক ব্যবস্থার অংশ করতে হবে।
একটি শিশুর নিরাপত্তা শুধু তার পরিবারের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে এখন প্রয়োজন অভিযোগ গোপন না করা, অপরাধীকে ছাড় না দেওয়া এবং বিচারকে দীর্ঘায়িত না করা।


0 মন্তব্যসমূহ