📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

সচল হলো আদানির বিকল ইউনিট, দুপুরের মধ্যে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের আশা

 

সচল হলো আদানির বিকল ইউনিট, দুপুরের মধ্যে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের আশা

সচল হলো আদানির বিকল ইউনিট, দুপুরের মধ্যে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের আশা

জাতীয় ডেস্ক, পকেট নিউজ | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি ইউনিট পুনরায় চালু হয়েছে। এতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা কমার আশা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটটি নির্ধারিত সময়ের আগেই রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আদানি পাওয়ার।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা ছিল। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরানোর আশা করা হচ্ছে। তবে ইউনিটটি পুনরায় চালু হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে গ্রিড ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন স্থিতিশীলতা এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন সক্ষমতার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভোরে চালু করা হয় ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিট

আদানি পাওয়ার রোববার এক বার্তায় জানায়, গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে সফলভাবে চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামতকাজ শেষ হওয়ায় ইউনিটটি দ্রুত উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটির বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ করতে হয়।

ইউনিটটি বিকল হওয়ার পর গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে বাংলাদেশে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণও হ্রাস পায়। আগে থেকেই জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ঘাটতির কারণে চাপের মধ্যে থাকা জাতীয় বিদ্যুৎব্যবস্থায় এর প্রভাব দ্রুত অনুভূত হয়।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছিল লোডশেডিং

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বিকল হওয়ার আগে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রটির সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।

বিদ্যুৎ সরবরাহে এই বড় ঘাটতির কারণে জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যায়। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, গ্যাসের ঘাটতি এবং কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ার পরিস্থিতির মধ্যে গোড্ডা কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এতে সরবরাহ ঘাটতি কিছুটা কমে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে।

৪৮ ঘণ্টার আগেই মেরামত শেষ

বয়লারে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে সমন্বয় করে মেরামতকাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

তবে মেরামতকাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিটটি সচল করা সম্ভব হয়েছে। এখন জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার পর ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো ইউনিট দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে শুধু উৎপাদন ঘাটতিই তৈরি হয় না, জাতীয় গ্রিডের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তাই দ্রুত ইউনিটটি চালু হওয়াকে বিদ্যুৎ খাতের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কয়লা সরবরাহেও আগে তৈরি হয়েছিল সংকট

গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্যাটি শুধু কারিগরি ত্রুটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর আগে কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছিল না।

আদানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং অতিবৃষ্টির কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় কয়লা মজুত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

জ্বালানি হিসেবে কয়লার ওপর নির্ভরশীল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়লা মজুত কমে গেলে কেন্দ্রের উৎপাদন ধাপে ধাপে কমাতে হয়। গোড্ডা কেন্দ্রেও এমন পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় কমে গিয়েছিল।

তবে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে কেন্দ্রটির উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াটে এবং সন্ধ্যায় তা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করা সম্ভব হয়েছিল।

এরপরই বয়লারের কারিগরি ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন আবারও বড় ধাক্কা খায়।

বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিদ্যুৎ আমদানি উৎস গোড্ডা

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি গুরুত্বপূর্ণ আমদানি উৎস। ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত এই কেন্দ্রের দুটি ইউনিটে মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের সময় আমদানি করা বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করে।

গোড্ডা কেন্দ্রের উৎপাদন কমে গেলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়। আবার কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই স্বাভাবিকভাবে চালু থাকলে বাংলাদেশ তুলনামূলক স্থিতিশীল সরবরাহ পেতে পারে। ফলে একটি ইউনিটের পুনরায় সচল হওয়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

লোডশেডিং কমার আশা থাকলেও জ্বালানি সংকট রয়ে গেছে

গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল ইউনিট সচল হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকটের একমাত্র কারণ এই কেন্দ্রের উৎপাদন ঘাটতি নয়।

দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তাও বিদ্যুৎ উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে।

তাই গোড্ডার একটি ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় লোডশেডিং কিছুটা কমলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার করা এবং আমদানি-নির্ভরতার ঝুঁকি কমানো প্রয়োজন।

সামনে নজর থাকবে পূর্ণ উৎপাদন ও গ্রিড সমন্বয়ে

ইউনিটটি চালু হওয়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সফল সমন্বয় এবং নির্ধারিত সক্ষমতায় উৎপাদন বজায় রাখা। শুধু যন্ত্র চালু করলেই পূর্ণ সরবরাহ নিশ্চিত হয় না; উৎপাদন ধীরে ধীরে স্থিতিশীল পর্যায়ে নেওয়া এবং সঞ্চালনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, রোববার দুপুরের মধ্যে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হবে। এতে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের ওপর তাৎক্ষণিক স্বস্তি আসতে পারে।

তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎব্যবস্থায় আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতার বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে। একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি বা জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক বাধা জাতীয় গ্রিডে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জরুরি সরবরাহ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ