ভারতের সঙ্গে ১০১ সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে সরকার: দ্রুত আসছে সিদ্ধান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের সঙ্গে বিগত সরকারের করা শতাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে কোনগুলো দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কোনগুলো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে এবং কোনগুলো বাতিল বা সংশোধন করা হবে—তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে করা মোট ১০১টি এমওইউ ও চুক্তি নিয়ে সরকার আলোচনা করছে। এ বিষয়ে পর্যালোচনার ফলাফল খুব শিগগিরই জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। এ সময় সরকারদলীয় অন্যান্য হুইপও উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সরকারের নতুন পর্যালোচনা
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তি এবং এর আওতায় বিদেশি জাহাজ চলাচল নিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার শুধু একটি বা দুটি চুক্তি নয়, ভারতের সঙ্গে করা সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে।
তিনি জানান, মোট ১০১টি এমওইউ নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব চুক্তির পর্যালোচনার ফলাফল অনতিবিলম্বে জানানো হবে।
সরকারের এই বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, বিগত সময়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
বিশেষ করে বন্দর ব্যবহার, বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে করা চুক্তিগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশের স্বার্থ কীভাবে আরও নিশ্চিত করা যায়, সেটিই পর্যালোচনার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।
তৃতীয় অধিবেশনে পাস হয়েছে ছয়টি বিল
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন নয় কার্যদিবস চলার পর বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। অধিবেশন শেষে সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ জানান, এই সময়ে মোট ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাস হয়েছে।
এ ছাড়া সংসদের বিভিন্ন বিধির আওতায় উত্থাপিত ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর সংসদের অধিবেশন বসার যে ধারাবাহিকতা রয়েছে, তার অংশ হিসেবেই তৃতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী অধিবেশনও একই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদীয় কার্যক্রম নিয়মিত ও কার্যকর রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ব্যাখ্যা
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যা ও সভাপতির পদ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, অতীতে বিরোধী দল থেকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির খুব বেশি নেই।
তবে বর্তমান সংসদে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি হিসেবে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারি হিসাব কমিটিকে সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমিটি হিসেবে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয় ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আর্থিক কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সরকারের ব্যয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কমিটির কাছে জবাব দিতে হয়।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত মোট ৩৯টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২৪টিতে বিরোধী দলের সদস্য রাখা হয়েছে। সংসদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে হিসাব করলে এই সংখ্যা কিছুটা বেশি বলেও দাবি করেন তিনি।
এর মধ্যে ২২টি কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন করে সদস্য রয়েছেন। বাকি কমিটিগুলোতে রাখা হয়েছে দুজন করে সদস্য।
সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে সংসদীয় গণতন্ত্র ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীকে গুরুত্বপূর্ণ বললেন চিফ হুইপ
তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া ছয়টি বিলের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানদের সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও সেই সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার ধরে রাখতে পারবেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বৃদ্ধ মা-বাবা অবহেলার শিকার হন। তাঁদের ভরণপোষণ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করতে হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে জীবদ্দশায় মা-বাবার সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আইনটির মাধ্যমে পারিবারিক সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বয়স্ক অভিভাবকদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইনেও নতুন বিধান
তৃতীয় অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার-সংক্রান্ত বিল পাস হয়েছে বলেও জানান চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, এসব বিল তৈরির আগে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। আইনজীবী, বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬ জন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও মতবিনিময় করে তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের অধ্যাদেশে শাস্তির যে সীমা নির্ধারিত ছিল, পাস হওয়া আইনে তা আরও কঠোর করা হয়েছে। এমনকি কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
তবে এসব আইন বাস্তবায়নে কার্যকর তদন্ত, বিচারিক স্বচ্ছতা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, তবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার
বাংলাদেশ সব প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেন নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব দেশের স্বার্থের সম্পর্ক বেশি, তাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রেই দেশের যথাযথ মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষা করা হবে না।
ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়টি এই নীতির সঙ্গেই সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার একদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলেও অন্যদিকে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও সার্বভৌম স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হয়েছে, তা যাচাই করতে আগ্রহী।
২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়েও বক্তব্য দেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বিপরীতে গত পাঁচ মাসে ২০৫ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই অর্থ জনগণের করের টাকা। তাই সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জনগণের অর্থের একটি টাকাও যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যয় না হয়, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।
ঋণ পরিশোধের এই তথ্য সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপের একটি দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে সময় লাগবে
দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। তাই চাইলেই দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়।
তিনি বিগত সরকারের বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তি ও দায়মুক্তির বিধানের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও কিছু কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে, যার ফলে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে।
বর্তমান সরকার এসব দায়মুক্তির বিধান বাতিল করেছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিবর্তে সরকারকে সরাসরি ক্ষমতা দেওয়ার ব্যবস্থারও সমালোচনা করেন চিফ হুইপ। তাঁর মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রয়োজন।
জুলাই সনদের পুরোটা বাস্তবায়নের ঘোষণা
সংবাদ সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার বলে মন্তব্য করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। কোনো অংশ বাদ দিয়ে নয়, পুরো সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।
চিফ হুইপ জানান, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে সরকার সনদের শতভাগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবিধান সংশোধন ছাড়া সংস্কার সম্ভব নয়: চিফ হুইপ
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর পথ নেই।
বিরোধীপক্ষের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনের পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও চিফ হুইপ মনে করেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সাংবিধানিক পরিবর্তন করতেই হবে।
তিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন করা হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতেও সংবিধান বহুবার সংশোধন করা হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও আইন সংস্কার করা একটি স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক ঐকমত্য
চিফ হুইপের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে বিগত সরকারের করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আর্থিক দায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে সংসদীয় প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর রাখা, রাজস্ব ও সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা আনা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং আইনগত স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়টি কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। এসব চুক্তির ফলাফল প্রকাশের পর সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিবেশী সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট হতে পারে।
অন্যদিকে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সংবিধান সংশোধন, বিরোধী দলের মতামত এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এই প্রক্রিয়া কতটা গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করা যায়, সেটিই এখন সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।


0 মন্তব্যসমূহ