৬ অক্টোবর শেষবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি, বিদায়ী ম্যাচে প্রতিপক্ষ বেনিন
ক্রীড়া ডেস্ক ,পকেট নিউজ |১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়ের শেষ দৃশ্যের অপেক্ষা এখন সময়ের ব্যাপার। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর লিওনেল মেসি এবার জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, এটিই হবে জাতীয় দলের হয়ে মেসির আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচ।
মনুমেন্তালে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি
আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই মেসিকে ঘরের মাঠে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা করছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে।
এই ম্যাচের জন্য ঘোষিত আর্জেন্টিনা দলে মেসিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশের মাটিতে আকাশি-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো তাঁকে দেখার সুযোগ পাবেন আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।
এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, বিশ্বসেরা খেলোয়াড় ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রতীক লিওনেল আন্দ্রেস মেসিকে যথাযথ বিদায় জানানোর জন্য তাঁকে এই ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বিদায়ী ম্যাচে থাকবেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থরা
মেসির বিদায়কে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে এএফএ। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সব সদস্যকে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ক্লদিও তাপিয়া জানিয়েছেন, মেসির সঙ্গে কাতার বিশ্বকাপে খেলা দলের সব সদস্যকে পরিবারসহ এই বিশেষ আয়োজনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এএফএ সভাপতির ভাষায়, এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়; আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখার একটি বিশেষ আয়োজন।
ফলে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অসংখ্য স্মৃতি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অবসরের ঘোষণা
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। গত ৩১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় তিনি জাতীয় দলের হয়ে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সমাপ্তির কথা জানান।
অনেকের ধারণা ছিল, বিশ্বকাপের ফাইনালে হারই হয়তো আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সেই অধ্যায়ের শেষটা হবে ঘরের মাঠে, দেশের মানুষের সামনে।
এর ফলে মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি হবে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ নয়, বরং তাঁর সম্মানে আয়োজিত একটি বিশেষ প্রীতি ম্যাচ।
২০৮তম ম্যাচে নতুন মাইলফলক
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসির ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচ খেলা এবং গোল করার রেকর্ডে মেসির ওপরে রয়েছেন শুধু পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
তবে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে মেসি ইতোমধ্যেই একাধিক রেকর্ডের মালিক। দেশের জার্সিতে সর্বোচ্চ ২০৭টি ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ ১২৫টি গোল করার কৃতিত্ব তাঁর দখলে।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির ক্যারিয়ারে রয়েছে বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা শিরোপা এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্য।
বিশ্বকাপ-পরবর্তী তিন প্রীতি ম্যাচ
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা মোট তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে।
সূচি অনুযায়ী:
৩০ সেপ্টেম্বর: বলিভিয়ার বিপক্ষে কর্দোবায় ম্যাচ।
৩ অক্টোবর: বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে বুয়েনস এইরেসে ম্যাচ।
৬ অক্টোবর: বেনিনের বিপক্ষে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মেসির বিদায়ী ম্যাচ।
এই তিন ম্যাচের মধ্যে শেষ ম্যাচটিই সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
দর্শকসংখ্যা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা
মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনাকে একটি প্রশাসনিক সমস্যারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফিফার শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচে দর্শক ধারণক্ষমতা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিতে হবে।
ফিফার এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলিভিয়ার বিপক্ষে ৩০ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে। ওই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কর্দোবার মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে।
ক্রীড়া ইভেন্টকে রাজনৈতিক বা ক্রীড়াবহির্ভূত বার্তা প্রদর্শনের কাজে ব্যবহারের অভিযোগে আর্জেন্টিনা এই শাস্তির মুখে পড়ে। সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞায় থাকছেন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
সর্বশেষ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন ফুটবলার শাস্তির মুখে পড়েন।
ধারণা করা হচ্ছে, এসব নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ বিশ্বকাপ-পরবর্তী প্রীতি ম্যাচগুলোতেই কার্যকর হতে পারে।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন:
লিয়ান্দ্রো পারেদেস — ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ
নাহুয়েল মলিনা — ৭ ম্যাচ নিষিদ্ধ
থিয়াগো আলমাদা — ১ ম্যাচ নিষিদ্ধ
ফলে মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা দলকে খেলোয়াড় নির্বাচন ও মাঠের কৌশল নিয়েও কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের শেষ অধ্যায়
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার শুধু রেকর্ড আর শিরোপার গল্প নয়; এটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন অধ্যায়।
বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে জাতীয় দলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান—মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ফুটবল বিশ্বে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাঁর বিদায়ী ম্যাচকে ঘিরে তাই শুধু আর্জেন্টিনা নয়, বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আগামী ৬ অক্টোবর মনুমেন্তালের মাঠে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
তবে তাঁর রেখে যাওয়া রেকর্ড, অর্জন ও ফুটবলীয় উত্তরাধিকার দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা এবং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


0 মন্তব্যসমূহ