📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

সুইজারল্যান্ডে এক বছরে গলেছে হিমবাহের ৫ শতাংশের বেশি বরফ

 

সুইজারল্যান্ডে এক বছরে গলেছে হিমবাহের ৫ শতাংশের বেশি বরফ

সুইজারল্যান্ডে এক বছরে গলেছে হিমবাহের ৫ শতাংশের বেশি বরফ

রেকর্ড তাপপ্রবাহ ও কম তুষারপাতে দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে আল্পসের হিমবাহ, তিন মাসে হারিয়েছে ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি

জেনেভা: ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ড তাপপ্রবাহের প্রভাব এবার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সুইজারল্যান্ডের আল্পস অঞ্চলের হিমবাহগুলোতে। চলতি বছর দেশটির হিমবাহগুলোর ৫ শতাংশের বেশি বরফ গলে গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার এই গতি শুধু পাহাড়ি পরিবেশের জন্য নয়, ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ ও ইউরোপের বরফনির্ভর বাস্তুতন্ত্রের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক এবং সুইস একাডেমি অব সায়েন্সেসের সুইস কমিশন ফর ক্রায়োস্ফিয়ার অবজারভেশনের প্রতিবেদনে হিমবাহের দ্রুত বরফ হারানোর এই চিত্র উঠে এসেছে।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত বরফ গলার ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং গত কয়েক বছরে এটি প্রায় নিয়মিত পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে। গত পাঁচ বছরেই সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো তাদের মোট বরফের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হারিয়েছে।

নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি বিজ্ঞানীরা

সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্কের পরিচালক ম্যাথিয়াস হাসের মতে, হিমবাহের পরিবর্তন এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যখন পাহাড়ের বরফ দ্রুত গলে গিয়ে হিমবাহের অস্তিত্বকেই দৃশ্যমানভাবে সংকুচিত করছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হিমবাহের ভয়াবহ হারে বরফ গলার পেছনে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—শীত মৌসুমে তুলনামূলক কম তুষারপাত এবং গ্রীষ্মে অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা।

শীতকালে নতুন তুষারের স্তর হিমবাহের ওপর প্রাকৃতিক আবরণ হিসেবে কাজ করে। সেই তুষার গ্রীষ্মে গলে যাওয়ার আগে বরফের নিচের অংশকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। কিন্তু তুষারপাত কম হলে হিমবাহের পুরোনো বরফ সরাসরি উষ্ণ আবহাওয়ার প্রভাবের মুখে পড়ে। ফলে বরফ গলার গতি আরও বেড়ে যায়।

পাঁচ বছরে হারিয়েছে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বরফ

সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ বছরে দেশটির হিমবাহগুলো প্রায় ২০ শতাংশ বরফ হারিয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে যে পরিমাণ পরিবর্তন ধীরে ধীরে হওয়ার কথা ছিল, তুলনামূলক অল্প সময়ের মধ্যেই তার বড় অংশ ঘটছে।

বিজ্ঞানীদের কাছে এই প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হিমবাহ শুধু পাহাড়ের বরফের স্তূপ নয়। এগুলো আল্পস অঞ্চলের পানি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শীত ও বসন্তে জমে থাকা তুষার ও বরফ গ্রীষ্মে ধীরে ধীরে গলে নদী ও জলাধারে পানি যোগ করে।

হিমবাহের আয়তন কমতে থাকলে স্বল্পমেয়াদে গলিত বরফের কারণে পানির প্রবাহ কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বরফের মজুত কমে গেলে এই অতিরিক্ত পানির উৎসও দুর্বল হয়ে পড়বে।

তিন মাসে ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি হারিয়েছে

চলতি বছরের হিমবাহ গলার মাত্রা বোঝাতে গবেষকেরা একটি বিশাল পরিমাণের হিসাব দিয়েছেন।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—মাত্র তিন মাসে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি হারিয়েছে।

পরিমাণটি বোঝার জন্য গবেষকেরা এটিকে দেশটির পরিবারগুলোর এক বছরের মোট খাবার পানির ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। হিসাব অনুযায়ী, তিন মাসে হিমবাহ থেকে হারিয়ে যাওয়া পানির পরিমাণ দেশটির পরিবারগুলোর এক বছরে ব্যবহৃত খাবার পানির চার গুণেরও বেশি।

তবে এই বিপুল পরিমাণ পানি হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া মানেই সবটুকু পানি নষ্ট হয়ে গেছে—এমন নয়। বরফ গলে যে পানি তৈরি হয়, তার একটি অংশ নদী ও অন্যান্য জলপ্রবাহে যুক্ত হয়। কিন্তু এর অর্থ হলো দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ে সঞ্চিত বরফের পরিমাণ দ্রুত কমে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় আলেৎশ হিমবাহেও বড় ক্ষয়

সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হিমবাহ আলেৎশ চলতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরফ হারিয়েছে।

দেশটির অন্যান্য হিমবাহের মধ্যেও ব্যাপক পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশেষ করে গ্লেসিয়ার দ্য সঁফ্লেরঁ হিমবাহের গড় পুরুত্ব ৪ মিটারের বেশি কমেছে।

বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ কয়েক বছর আগেও কোনো কোনো অঞ্চলে এত দ্রুত বরফের পুরুত্ব কমে যাওয়ার ঘটনা কল্পনা করা কঠিন ছিল।

হিমবাহের পুরুত্ব কমার পাশাপাশি বরফে ঢাকা এলাকার সীমানাও ধীরে ধীরে পেছাতে থাকে। ফলে যেসব জায়গা একসময় সাদা বরফে ঢাকা থাকত, সেখানে পাথুরে ভূমি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

২০২২ সালের রেকর্ডের কাছাকাছি নয়, তবু উদ্বেগ কাটছে না

চলতি বছরের পরিস্থিতি ভয়াবহ হলেও এটি সুইজারল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিমবাহ গলার ঘটনা নয়।

গবেষকদের মতে, ২০২২ সালে এর চেয়েও বেশি মাত্রায় বরফ গলেছিল। সে সময় উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ধুলোর মেঘ ইউরোপের আল্পস অঞ্চলে পৌঁছে তুষারের ওপর জমে যায়।

সাদা তুষার সাধারণত সূর্যের আলো ও তাপের একটি বড় অংশ প্রতিফলিত করে। কিন্তু ধুলা জমে তুষারের রং গাঢ় হয়ে গেলে সূর্যের তাপ বেশি শোষিত হয়। এর ফলে বরফ গলার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

চলতি বছরে ২০২২ সালের মতো সেই বিশেষ পরিস্থিতি না থাকলেও কম তুষারপাত ও উচ্চ তাপমাত্রার সম্মিলিত প্রভাবেই হিমবাহের ব্যাপক ক্ষয় হয়েছে।

গ্রীষ্মে পানির সংকট কমানোর ‘প্রাকৃতিক ব্যবস্থা’ও দুর্বল হচ্ছে

হিমবাহ গলার বিষয়টিকে শুধু নেতিবাচক হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না।

গ্রীষ্মকালে যখন বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং তাপমাত্রা বাড়ে, তখন হিমবাহ থেকে গলে আসা পানি নদী ও জলপ্রবাহে যুক্ত হয়ে পানির ঘাটতি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। কৃষি, পরিবেশ এবং বিভিন্ন মানবিক ব্যবহারের জন্য এই পানি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কিন্তু এই ব্যবস্থার একটি সীমা রয়েছে।

হিমবাহের আয়তন যত কমবে, ভবিষ্যতে গ্রীষ্মকালে গলে যাওয়ার মতো বরফও তত কম থাকবে। ফলে এখন যে অতিরিক্ত গলিত পানি স্বল্পমেয়াদে পানির ঘাটতি কমাতে সাহায্য করছে, দীর্ঘমেয়াদে সেই সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থাৎ হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া সাময়িকভাবে পানির প্রবাহ বাড়াতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে ভবিষ্যতের পানির মজুত কমিয়ে দিচ্ছে।

ইউরোপের বরফনির্ভর পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ শুধু দেশটির ভূপ্রকৃতির অংশ নয়; আল্পস পর্বতমালার বরফ ইউরোপের বৃহত্তর জলবায়ু ও পানি ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত।

হিমবাহের সংকোচন অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি নদীর প্রবাহের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। গ্রীষ্মকালে পানির প্রাপ্যতায় পরিবর্তন আসতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিছু অঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

এর পাশাপাশি হিমবাহনির্ভর জীববৈচিত্র্য, পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্র এবং পর্যটন খাতেও প্রভাব পড়তে পারে। বরফ ও তুষারের ওপর নির্ভরশীল আল্পস অঞ্চলের প্রাকৃতিক দৃশ্যের পরিবর্তনও পর্যটনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এসব প্রভাবের মাত্রা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ধরন নির্ভর করবে ভবিষ্যতের তাপমাত্রা, তুষারপাত ও বৃষ্টিপাতের ওপর।

পাহাড়ের বরফের জায়গায় দেখা যাচ্ছে পাথর

হিমবাহের দ্রুত সংকোচনের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে পাহাড়ের দৃশ্যপটে।

ম্যাথিয়াস হাসের বক্তব্য অনুযায়ী, হিমবাহ কত দ্রুত গলছে—বিজ্ঞানীরা তা জানেন এবং এ ধরনের পরিবর্তন এখন তাঁদের কাছে পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। কিন্তু যেসব পাহাড়ি জায়গা আগে তুষারে ঢাকা থাকত, সেখানে এখন শুধু পাথর দেখা যাচ্ছে—এই দৃশ্যই পরিস্থিতির গভীরতা বোঝাচ্ছে।

এটি শুধু একটি বৈজ্ঞানিক পরিসংখ্যান নয়; আল্পসের ভূপ্রকৃতিতে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন।

এক নজরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ পরিস্থিতি

বিষয়তথ্য
চলতি বছরে বরফের ক্ষতি৫ শতাংশের বেশি
গত পাঁচ বছরে বরফের ক্ষতিপ্রায় এক-পঞ্চমাংশ
জুলাই–সেপ্টেম্বরে পানির ক্ষতিপ্রায় ২.২ ট্রিলিয়ন লিটার
পারিবারিক এক বছরের খাবার পানির তুলনাচার গুণের বেশি
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বড় হিমবাহআলেৎশ
গ্লেসিয়ার দ্য সঁফ্লেরঁ-এ গড় পুরুত্বের হ্রাস৪ মিটারের বেশি
তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ গলার বছর২০২২

সামনে বড় প্রশ্ন পানি নিয়ে

সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য সামনে এনেছে। একদিকে বরফ গলে গ্রীষ্মকালে পানির প্রবাহ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সেই একই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতের পানির মজুত কমিয়ে দিচ্ছে।

যদি হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে একসময় গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত পানি সরবরাহের এই প্রাকৃতিক সুবিধা কমে যেতে পারে। তখন পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, নদী ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষায় নতুন ধরনের পরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে।

বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে তাই এবারের ৫ শতাংশের বেশি বরফ হারানোর ঘটনা শুধু একটি বার্ষিক পরিসংখ্যান নয়। এটি আল্পস অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা দ্রুত দৃশ্যমান হয়ে উঠছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

তথ্যসূত্র:
রয়টার্স এবং সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য।

পকেট নিউজ | হাতের মুঠোয় সকল খবর

আরও পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ