বাংলাদেশ দলের নতুন সহকারী কোচ দক্ষিণ আফ্রিকার মালিবংওয়ে মাকেতা
দুই বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিলেন প্রোটিয়া কোচ, প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন
ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের নতুন সহকারী কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার মালিবংওয়ে মাকেতাকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দুই বছরের জন্য তাঁর সঙ্গে চুক্তি করেছে বিসিবি।
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন ৪৬ বছর বয়সী এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
মাকেতার নিয়োগের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে আবারও দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা যুক্ত হলো। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দল, দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দল, জাতীয় একাডেমি এবং ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেছেন তিনি।
দুই বছরের চুক্তিতে বিসিবির নতুন সংযোজন
বিসিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাকেতার চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ আগামী দুই বছরের বেশি সময় বাংলাদেশের জাতীয় দলের কোচিং কাঠামোর অংশ থাকবেন তিনি।
নতুন দায়িত্বে তাঁর প্রধান কাজ হবে প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের সঙ্গে সমন্বয় করে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, উন্নয়ন ও পারফরম্যান্সে সহায়তা করা।
মাকেতা দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি। বিশেষ করে আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সালাহউদ্দীনের জায়গায় মাকেতা
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেছেন দেশীয় কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন। সম্প্রতি তাঁকে বিসিবির উচ্চ কার্যক্ষমতা ইউনিটের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফলে জাতীয় দলের কোচিং কাঠামোয় তাঁর জায়গায় নতুন সহকারী হিসেবে মাকেতাকে নিয়োগ দেওয়া হলো। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া পর্যায়ে দীর্ঘদিন কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকা একজন বিদেশি কোচকে এই দায়িত্বে আনার মাধ্যমে বিসিবি কোচিং স্টাফে নতুন অভিজ্ঞতা যুক্ত করেছে।
মাকেতা এখন সরাসরি ফিল সিমন্সের অধীনে কাজ করবেন। এর ফলে বাংলাদেশের কোচিং স্টাফে প্রধান কোচ ও সহকারী কোচের সমন্বয়েও নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।
খেলোয়াড় হিসেবে অভিজ্ঞতা সীমিত, কোচিংয়ে দীর্ঘ পথ
মালিবংওয়ে মাকেতার খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ নয়। স্বীকৃত ক্রিকেটে তাঁর উল্লেখযোগ্য খেলার অভিজ্ঞতা বলতে ২০০৭ সালে একটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ রয়েছে।
তবে খেলোয়াড় হিসেবে সীমিত অভিজ্ঞতার বিপরীতে কোচ হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ার দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি।
ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার লেভেল-৪ কোচিং সনদও রয়েছে তাঁর। ফলে খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের দল পরিচালনা ও কোচিং ব্যবস্থাপনায়ও কাজ করেছেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা
মাকেতার কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করা।
তিনি প্রোটিয়া জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচিং স্টাফের অংশ ছিলেন তিনি। এই সময়েই ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৯ সালের বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকা দলের কোচিং স্টাফের সদস্য হিসেবে কাজ করেন।
জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দল এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
এর মাধ্যমে জাতীয় দলের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের বিকাশের সঙ্গেও তাঁর সরাসরি অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় একাডেমি ও ওয়ারিয়র্সেও দায়িত্ব
মাকেতা দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় একাডেমির প্রধান কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত দল ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই অভিজ্ঞতা তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কারণ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি উদীয়মান ক্রিকেটারদের উন্নয়ন ও ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোর সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি।
সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ এবং জাতীয় একাডেমির প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাকেতা।
তরুণ ক্রিকেটার উন্নয়নে অভিজ্ঞতা
মাকেতার কোচিং ক্যারিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা।
দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও জাতীয় একাডেমিতে কাজ করার সময় উদীয়মান ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান দলেও একাধিক তরুণ ক্রিকেটার রয়েছেন। ফলে জাতীয় দলের প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের উন্নয়নেও তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।
তবে তাঁর নিয়োগের বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করতে হলে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের পারফরম্যান্স ও কোচিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
মাকেতা: ‘দলের সাফল্যে ইতিবাচক অবদান রাখতে মুখিয়ে আছি’
বাংলাদেশের সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর মাকেতা বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। বিসিবি তাঁর ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ বলেও জানান তিনি।
দলের সাফল্যে ইতিবাচক অবদান রাখার পাশাপাশি প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও অন্য কোচিং স্টাফের সঙ্গে কাজ করে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চটা বের করে আনার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন মাকেতা।
সামনে ব্যস্ত সূচি বাংলাদেশের
মাকেতা এমন সময়ে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, যখন জাতীয় দলের সামনে রয়েছে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একমাত্র টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দল ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইসিসির তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচটি ৯ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
এরপর বাংলাদেশের সামনে থাকবে বিভিন্ন সংস্করণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল গঠন, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি এবং বেঞ্চ শক্তি বাড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এমন সময়ে কোচিং স্টাফে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করা একজন অভিজ্ঞ কোচের সংযোজন দলের প্রস্তুতি কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বিশ্বকাপের আগে নতুন কোচিং সমন্বয়
বাংলাদেশের জন্য আগামী বিশ্বকাপ গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষ্য। সেই প্রস্তুতির সময়েই মাকেতাকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি।
তাঁর দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দল, ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও একাডেমিতে কাজের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কোচিং কাঠামোয় বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা যুক্ত করছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় ভবিষ্যতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা বিশ্বকাপ প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও তাঁর স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে। তবে এর বাস্তব সুফল নির্ভর করবে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব ও কাজের ধরন কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায় তার ওপর।
এক নজরে মালিবংওয়ে মাকেতা
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | মালিবংওয়ে মাকেতা |
| জাতীয়তা | দক্ষিণ আফ্রিকা |
| বয়স | ৪৬ বছর |
| নতুন দায়িত্ব | বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী কোচ |
| চুক্তির মেয়াদ | অক্টোবর ২০২৬–নভেম্বর ২০২৮ |
| প্রধান কোচের সঙ্গে কাজ | ফিল সিমন্স |
| কোচিং অভিজ্ঞতা | দুই দশকের বেশি |
| কোচিং সনদ | ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার লেভেল-৪ |
| সাবেক দায়িত্ব | দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দল, ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দল, জাতীয় একাডেমি, ওয়ারিয়র্স |
| ২০১৯ বিশ্বকাপ | দক্ষিণ আফ্রিকার কোচিং স্টাফের সদস্য |
| সর্বশেষ দায়িত্ব | দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ ও জাতীয় একাডেমি |
বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের শুরু
মালিবংওয়ে মাকেতার নিয়োগ বাংলাদেশের জাতীয় দলের কোচিং কাঠামোয় একটি নতুন সংযোজন। দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ার, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং তরুণ ক্রিকেটার উন্নয়নে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি বাংলাদেশে আসছেন।
তাঁর প্রথম দায়িত্বগুলোর একটি হবে দলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং ফিল সিমন্সের নেতৃত্বাধীন কোচিং স্টাফের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে তাঁর বাংলাদেশ অধ্যায়ের শুরু হওয়ার কথা। এরপর সামনে থাকবে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক মৌসুম ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি।
মাকেতার নিয়োগের মাধ্যমে বিসিবি যে অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের কোচিং ব্যবস্থায় যুক্ত করল, তার বাস্তব প্রতিফলন আগামী ম্যাচগুলোতেই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, ক্রিকবাজ এবং আইসিসি।
পকেট নিউজ | হাতের মুঠোয় সকল খবর


0 মন্তব্যসমূহ