আকাশে বিদ্যুৎ চমকালেই সাবধান: বজ্রপাত থেকে বাঁচতে যা করবেন না
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
বজ্রপাত কেবল সাধারণ কোনো আবহাওয়া পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক ঘটনা। প্রতি বছর বজ্রপাতে দেশে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়, যার প্রধান কারণ অসাবধানতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য সচেতনতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। বজ্রপাতের সময় কোন কাজগুলো করা জীবনঘাতী হতে পারে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকুন
বজ্রপাত সাধারণত আশপাশের সবচেয়ে উঁচু বস্তুকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। তাই বড় গাছের নিচে দাঁড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গাছের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরাসরি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
২. খোলা জায়গা ও মাটিতে শোয়া পরিহার করুন
খেলার মাঠ বা পার্কের মতো খোলা জায়গায় থাকলে বজ্রপাত সরাসরি আঘাত হানার ঝুঁকি বেশি থাকে। অনেকে মনে করেন মাটিতে শুয়ে পড়লে ঝুঁকি কমে, কিন্তু এটি ভুল ধারণা। বজ্রপাতের বিদ্যুৎ মাটির ওপর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে (গ্রাউন্ড কারেন্ট), তাই শুয়ে পড়লে শরীরের বেশি অংশ বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকে। দ্রুত কোনো নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেওয়াই সর্বোত্তম উপায়।
৩. জানালার গ্রিল ও ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন
বজ্রঝড়ের সময় জানালার পাশে থাকা বা গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বিপজ্জনক। ধাতব অংশ বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে, যা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে। তবে ঘড়ি, গয়না বা বেল্ট সরাতে গিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪. দলবদ্ধভাবে অবস্থান করবেন না
ঝড়ের সময় সবাই মিলে এক জায়গায় জড়ো হয়ে থাকা ঠিক নয়। গ্রাউন্ড কারেন্টের কারণে একসঙ্গে একাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করা নিরাপদ।
৫. পোষা প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
বজ্রপাতের সময় আপনার পোষা কুকুর বা বিড়ালকে বাইরে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখবেন না। তাদের দ্রুত নিরাপদ ঘরের ভেতরে নিয়ে আসা উচিত।
৬. ‘৩০-৩০’ নিয়ম মেনে চলুন
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা একটি সহজ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দেন:
৩০ সেকেন্ড: বিদ্যুৎ চমকানোর পর বজ্রের শব্দ যদি ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ের মধ্যে শোনা যায়, তবে বুঝতে হবে ঝড়টি খুব কাছে চলে এসেছে।
৩০ মিনিট: ঝড় পুরোপুরি থেমে গেলেও অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের ভেতরে থাকা নিরাপদ।

0 মন্তব্যসমূহ