‘চুক্তির খুব কাছাকাছি, নয়তো ভয়াবহ হামলা’—আবারও হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৮ জুন ২০২৬
ইরানের শত শত কোটি ডলারের জব্দ থাকা সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের স্থায়ী সমাধান এবং আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তেহরানের কোনো সম্পদ ছাড় করা হবে না।
রোববার সম্প্রচারিত এনবিসি নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মিট দ্য প্রেস-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি ভালো আচরণ করে, যদি ভালো কাজ করে, তাহলে আমরা আলোচনা শুরু করব।’
অর্থ ছাড়ে অনড় যুক্তরাষ্ট্র
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের জব্দ থাকা সম্পদের অন্তত একটি অংশ অবমুক্ত না হলে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হবে। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এ বিষয়ে ওয়াশিংটন আপাতত ছাড় দিতে রাজি নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ ছাড়ের প্রশ্নটি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার সবচেয়ে বড় অচলাবস্থাগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হামলার হুমকি আবারও
কূটনৈতিক আলোচনা চললেও ট্রাম্প হামলার হুমকি দেওয়া থেকে সরে আসেননি।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা হয় চুক্তির খুব কাছাকাছি, নয়তো আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালাব।’
এই বক্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
আলোচনায় অচলাবস্থা দেখছে তেহরান
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, আলোচনায় কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ জব্দ
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলার বা ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি সম্পদ জব্দ অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় ধীরে ধীরে এসব সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল ইরানের। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে পড়ে।
ইরানের দাবি ২৪ বিলিয়ন ডলার
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অংশ হিসেবে তেহরান ১২ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব হলো, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে অর্ধেক অর্থ ছাড় করতে হবে এবং বাকি অর্থ পরবর্তী ধাপে অবমুক্ত করতে হবে।
মোহসেন রেজায়ী এই অর্থছাড়ের বিষয়টিকে ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
লেবানন ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা
যুদ্ধবিরতি আলোচনার পাশাপাশি লেবানন পরিস্থিতিও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান হামলার সমালোচনা করছে ইরান। একই সঙ্গে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করেছেন, দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেছেন, লেবাননের সংঘাতের জন্য তারা ‘সম্পূর্ণভাবে হিজবুল্লাহকেই দায়ী’ মনে করেন।
অনিশ্চয়তা কাটছে না
গত এপ্রিল থেকে বড় ধরনের সংঘাত অনেকটাই কমে এলেও মাঝেমধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জব্দ সম্পদ অবমুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমঝোতা না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির পথ এখনো অনিশ্চিত।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বহুল আলোচিত এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান কতটা কাছাকাছি, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ