Header Ads Widget

Responsive Advertisement

রেকর্ড সামরিক ব্যয়: অনিরাপদ বিশ্বে অস্ত্র কেনার হিড়িক, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

 


রেকর্ড সামরিক ব্যয়: অনিরাপদ বিশ্বে অস্ত্র কেনার হিড়িক, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |পকেট নিউজ 

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অস্থিরতা, বাড়ছে যুদ্ধ আর সংঘাতের আশঙ্কা। আর এই ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে দেশে দেশে চলছে অস্ত্র কেনার মহোৎসব। সোমবার স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সামরিক খাতে রেকর্ড ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। টানা ১১ বছর ধরে এই ব্যয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

ব্যয়ের শীর্ষে তিন শক্তি

২০২৫ সালে সামরিক ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি খরচ করেছে মাত্র তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। এই তিন দেশের সম্মিলিত ব্যয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি ডলার

  • যুক্তরাষ্ট্র: ৯৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার (গত বছরের তুলনায় ৭.৫% কম)।

  • চীন: আনুমানিক ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।

  • রাশিয়া: ১৯ হাজার কোটি ডলার।

ইউরোপে যুদ্ধের আবহ ও ব্যয়ের উল্লম্ফন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ইউরোপ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে পুরো মহাদেশে সামরিক ব্যয় ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে।

  • জার্মানি: ১১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার (বৃদ্ধি ২৪%)।

  • স্পেন: ৪ হাজার ২০ কোটি ডলার (বৃদ্ধি ৫০%)।

  • ইউক্রেন: ৮ হাজার ৪১০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যা তাদের মোট জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ।

সিপ্রির গবেষক লরেনৎসো স্কারাৎসাতো বলেন, "ইউরোপ এখন নিজের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিজে নিতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ ওয়াশিংটন এখন ইউরোপের নিরাপত্তায় আগের মতো সময় ও অর্থ দিতে ইচ্ছুক নয়।"

এশিয়া ও ওশেনিয়া: চীনের প্রভাবে অস্থির প্রতিবেশী

এশিয়া অঞ্চলে সামরিক ব্যয় ৮.৫ শতাংশ বেড়ে ৬৮ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০০৯ সালের পর এটাই এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি। চীনের ক্রমাগত শক্তিবৃদ্ধিকে হুমকি হিসেবে দেখে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানও পাল্লা দিয়ে বাজেট বাড়াচ্ছে।

  • জাপান: ৬ হাজার ২২০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যা ১৯৫৮ সালের পর তাদের সর্বোচ্চ।

  • তাইওয়ান: ১৪ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে ১৮ হাজার কোটি ডলারের বেশি খরচ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র: ইসরায়েল ও ইরানের ব্যতিক্রমী হ্রাস

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা থাকলেও সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি ছিল মাত্র ০.১ শতাংশ। জানুয়ারিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর সংঘাতের তীব্রতা কমে আসায় ইসরায়েলের ব্যয় ৪.৯ শতাংশ কমেছে (৪৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার)। তবে এই ব্যয় ২০২২ সালের তুলনায় এখনো ৯৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানের সামরিক ব্যয় ৫.৬ শতাংশ কমে ৭৪০ কোটি ডলারে নেমেছে।

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় এই বছর কিছুটা কমলেও গবেষকরা বলছেন এটি সাময়িক। মার্কিন কংগ্রেস ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের জন্য ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি সামরিক বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাজেট প্রস্তাব পাস হলে ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।

সিপ্রির মন্তব্য: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জিডিপির তুলনায় সামরিক ব্যয়ের অনুপাত ২০০৯ সালের পর এখন সর্বোচ্চ। সিপ্রি গবেষক স্কারাৎসাতোর ভাষায়, "সব সূচক একটিই বার্তা দিচ্ছে—পৃথিবী এখন নিজেকে অনিরাপদ ভাবছে। আর সেই অনিশ্চয়তা সামলাতেই চলছে এই মরণঘাতী অস্ত্রের প্রতিযোগিতা।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ