📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

‘জুলাই কার’ বিতর্কে সতর্ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘এই বিতর্ক চললে জুলাই কারও থাকবে না’

 

‘জুলাই কার’ বিতর্কে সতর্ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘এই বিতর্ক চললে জুলাই কারও থাকবে না’

‘জুলাই কার’ বিতর্কে সতর্ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘এই বিতর্ক চললে জুলাই কারও থাকবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক| পকেট নিউজ
প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২৬ | ঢাকা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জুলাই কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একার অর্জন নয়। যদি আমরা বলতে শুরু করি—জুলাই কার, জুলাই কার—তাহলে শেষ পর্যন্ত জুলাই আমাদের কারোরই থাকবে না।’ তিনি মনে করেন, দীর্ঘ বছরের আন্দোলন, ত্যাগ, গুম, হত্যা ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতার ফল হিসেবেই ২০২৬ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই কোনো একদিনের ঘটনা নয়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেবল কয়েক সপ্তাহের আন্দোলন হিসেবে দেখলে ইতিহাসের বড় একটি অংশ উপেক্ষিত হবে। তাঁর ভাষায়, ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার, হামলা ও মামলার ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, অনেক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী বছরের পর বছর কারাগারে ছিলেন, অসংখ্য পরিবার স্বজন হারিয়েছে এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। এসব আত্মত্যাগকে বাদ দিয়ে শুধু জুলাইয়ের কয়েকটি দিনকে সামনে আনলে প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত হবে।

‘দলীয়করণ নয়, ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো দলীয় সম্পদে পরিণত হলে জাতি বিভক্ত হয়। তাই জুলাইয়ের চেতনাকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয় না বানিয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে শতাব্দীর পর শতাব্দী সংগ্রামের পরও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। আবার কোনো কোনো সময় অল্প সময়ের মধ্যেই ইতিহাস বদলে গেছে। বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও তেমনই একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন, যার মালিক পুরো জাতি।

গুম ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন মন্ত্রী

নিজের গুম ও বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথাকথিত ‘আয়নাঘরে’ ২৪ ঘণ্টাও স্বাভাবিকভাবে থাকা সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন।

তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর সঙ্গে কারাগারে কাটানো সময়ের স্মৃতিও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মীর কাসেম আলী তাঁকে বলেছিলেন, দেশে ফিরলে তাঁর ছেলেকে আটক করা হবে। পরে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব ঘটনাকে তিনি অতীতের স্বৈরশাসনের নির্মম দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

‘আন্দোলন রক্তাক্ত হয় দমন-পীড়নের কারণে’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো গণআন্দোলন শুরু থেকেই সহিংস হয় না। যখন গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথে আন্দোলনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়, তখন পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে গড়ায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার, গুম ও নির্যাতনের কারণে আন্দোলন শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত রূপ নিয়েছে।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার উল্লেখ

বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথাও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, কারাবন্দিত্ব, অসুস্থতা এবং পারিবারিক ক্ষতির মধ্য দিয়েও তিনি আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছেন। তাঁর মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় এসব ত্যাগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সংস্কারের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হলে সংসদের মাধ্যমে সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করতে হবে। একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

গুম প্রতিরোধে নতুন আইনের আশ্বাস

গুম প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সংসদে এ-সংক্রান্ত আইন উত্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, গুম, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হবে।

আহতদের শ্রেণিভিত্তিক পুনর্বাসনের প্রস্তাব

জুলাই আন্দোলনে আহতদের জন্য পৃথক শ্রেণিবিন্যাসের প্রস্তাবও দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যারা ভবিষ্যতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন এবং যারা স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন—তাদের আলাদা ভিত্তিতে পুনর্বাসন ও সহায়তা নিশ্চিত করা উচিত।

একই সঙ্গে এখনো তালিকাভুক্ত না হওয়া আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্রুত সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের বিচার আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি যেমন মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন, তেমনি কোনো রাজনৈতিক দলও আইনের আওতায় আসতে পারে।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে তিনি নন। তাঁর মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

বক্তব্যের শেষ অংশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার স্বৈরাচারী আচরণ করতে না পারে, সে জন্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ জরুরি। নতুন প্রজন্ম যাতে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সে লক্ষ্যেই জুলাই জাদুঘরকে জীবন্ত ইতিহাস হিসেবে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে—প্রথমত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজনের বিরোধিতা; দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামকে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা; এবং তৃতীয়ত, সংবিধান সংস্কার, গুম প্রতিরোধ আইন ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই-পরবর্তী সময়ে ইতিহাসের ব্যাখ্যা, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ঐকমত্য তৈরির প্রশ্নই আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ