ইরানের জবাব ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’, প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প: থমকে গেল মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ| ১১ মে, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া পাল্টা প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান তাদের লিখিত জবাব পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মাথায় ট্রাম্প এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। এতে করে শান্তি প্রক্রিয়া আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়ল।
‘এটি আমার পছন্দ হয়নি’—ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি—এটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।” কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়েই ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় আলোচনার টেবিলে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
ইরানের দেওয়া জবাবে যা ছিল
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, তেহরানের জবাবে প্রধানত সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাদের শর্তাবলির মধ্যে রয়েছে:
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানি তেল বিক্রিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ দেশটির ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা: ইরানের ওপর ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা চালানো হবে না—এমন গ্যারান্টি দাবি করেছে তেহরান।
নৌ-অবরোধ ও নিরাপত্তা: যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং লেবানন পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি ঠিক কবে বা কীভাবে খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দেয়নি ইরান।
পারমাণবিক ইস্যুতে ছাড়ের ইঙ্গিত
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তারা তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশের মাত্রা কমিয়ে আনা এবং অবশিষ্ট ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে। মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য বিবদমান বিষয়ে বড় আলোচনার আগে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে এই প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয়।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের এই লিখিত জবাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বাইরে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে চলমান অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন।

0 মন্তব্যসমূহ