Header Ads Widget

Responsive Advertisement

কাউকে ‘জিতিয়ে আনা’ হবে না, ভোট হবে প্রতিযোগিতামূলক

 


কাউকে ‘জিতিয়ে আনা’ হবে না, ভোট হবে প্রতিযোগিতামূলক: দলীয় নেতাদের কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ১০ মে, ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রকার প্রশাসনিক প্রভাব বা কাউকে ‘জিতিয়ে আনার’ সংস্কৃতি আর থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং এক্ষেত্রে কারও দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি ও এর তিন সহযোগী সংগঠন—যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ এক রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই ছিল দলের বড় ধরনের প্রথম সাংগঠনিক সভা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইঙ্গিত ও কড়া বার্তা

প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিগত সরকারের মতো কাউকে জিতিয়ে আনা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। মাঠে কাজ করে জনগণের আস্থা অর্জন করেই আপনাদের নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।” তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি জনগণের ভালোবাসার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে হলে নেতা-কর্মীদের জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলায় ‘জিরো টলারেন্স’

সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাদের উদ্বেগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কঠোর বার্তা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। এখন থেকে আর কোনো শিথিলতা দেখানো হবে না। যার যার ভুলত্রুটি আছে, তা শুধরে নিন; আইন অমান্যকারীর পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।”

বিজ্ঞাপন LIVE

সকল প্রকার মুভি ড্রামা সিরিজ একসাথে

কোন সাবস্ক্রিপশন ফি ছাড়াই ফ্রি দেখুন

ভিজিট করুন

মন্ত্রীদের জবাবদিহি ও মাঠপর্যায়ের প্রশ্ন

সকাল পৌনে ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই সভায় ১১ জন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। মাঠপর্যায়ের নেতারা সরাসরি মন্ত্রীদের কাছে জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন:

  • শিক্ষা: এইচএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কথা শিক্ষামন্ত্রীকে জানানো হয়।

  • স্বাস্থ্য: ঢাকা মেডিকেলে দালালদের দৌরাত্ম্য এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের সক্ষমতা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়।

  • ক্রীড়া: প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি কতদূর, তা জানতে চাওয়া হয়।

  • অবকাঠামো: রেল ও সড়কসহ স্থানীয় পর্যায়ের নানা সমস্যার কথা মন্ত্রীরা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন।

নতুন সংগ্রামের ডাক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর উদ্বোধনী বক্তৃতায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, “দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে আমাদের নতুন সংগ্রামে নামতে হবে।”

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং মাঠপর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে প্রতি তিন-চার মাস অন্তর এ ধরনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ