ঈদে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা নেই, তবে ভোগাতে পারে আকস্মিক ঝড়বৃষ্টি
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২৭ মে, ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকাসহ সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) তথ্য অনুযায়ী, ছুটি চলাকালে বিদ্যুতের বড় ধরনের কোনো ঘাটতি বা পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের শঙ্কা নেই। তবে গ্রামীণ জনপদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আকস্মিক ঝড়বৃষ্টি।
বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। ঈদের ছুটির প্রথম দিন গত সোমবার বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১০ হাজার ৫০০ থেকে ১১ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মাতারবাড়ি ও বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট বন্ধ থাকলেও, কয়লাভিত্তিক অন্যান্য কেন্দ্রগুলো সচল থাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পিডিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদে দেশবাসীকে স্বস্তি দিতে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গ্রামে কেন ঝুঁকি বেশি?
সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সারা দেশে পৌনে ৪ কোটি গ্রাহককে বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে থাকে। আরইবির প্রধান প্রকৌশলী স্বপন বণিক জানান, চাহিদা কম থাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সামগ্রিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ বিতরণ লাইন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
ঝড়বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মূল কারণসমূহ:
দীর্ঘ বিতরণ লাইন: আরইবির বিতরণ লাইন সাড়ে ৫ লাখ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা বন-জঙ্গল, বাড়িঘর ও গাছপালার মধ্য দিয়ে গেছে।
গাছপালার উপদ্রব: লাইনের ওপর গাছপালা হেলে পড়া বা ডাল ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অন্যতম প্রধান কারণ।
সনাতন পদ্ধতি: ত্রুটি শনাক্তকরণে এখনো অনেক ক্ষেত্রে সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হয়।
লাইন পরিষ্কারের সীমাবদ্ধতা: নিয়ম অনুযায়ী লাইনের দুই পাশে ১০ ফুট জায়গা পরিষ্কার রাখার বরাদ্দ থাকলেও, স্থানীয় বাধার কারণে তা নিয়মিত করা সম্ভব হয় না।
ঈদ স্পেশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঝড়বৃষ্টির কারণে যাতে ঈদ আনন্দ ম্লান না হয়, সেজন্য আরইবি বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
১. ছুটি বাতিল: ঈদ উপলক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ছুটি বাতিল করে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে।
২. দ্রুত মেরামতের প্রতিশ্রুতি: লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সাথে সাথেই মেরামতের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং: নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্ট্রোল রুম) ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই কুমিল্লার মতো বড় এলাকায় গত সোমবার ঝড়ের কবলে পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে মেরামতের পর বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবারের ঈদে বড় ধরনের কোনো সংকট ছাড়াই বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি সেবার সর্বশেষ আপডেট পেতে চোখ রাখুন ‘পকেট নিউজ’-এ।
পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর।

0 মন্তব্যসমূহ