Header Ads Widget

Responsive Advertisement

কোরবানির খরচ সাধারণের নাগালে নেই: কমছে কোরবানি

 

কোরবানির খরচ সাধারণের নাগালে নেই: কমছে কোরবানি, সরকারি হিসাবে গরমিল নিয়ে প্রশ্ন

কোরবানির খরচ সাধারণের নাগালে নেই: কমছে কোরবানি, সরকারি হিসাবে গরমিল নিয়ে প্রশ্ন

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২৮ মে, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রতিবছর বাংলাদেশে যে কোরবানির আমেজ তৈরি হয়, তাতে এবার ভাটার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় কোরবানি দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছেন অনেকেই। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যে ‘পশু উদ্বৃত্ত’ থাকার কথা বলা হলেও, বাজারে মাংসের চড়া দাম বলছে ভিন্ন কথা।

কেন কমছে কোরবানি?

দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক চাপ, করোনা মহামারির ক্ষত এবং পরবর্তী সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতিতে যে ভাটা পড়েছে, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে ধর্মীয় এই উৎসবের ওপর।

  • মধ্যবিত্তের সক্ষমতা হ্রাস: অতীতে যারা পূর্ণ পশু কোরবানি দিতেন, তাদের অনেকে এখন ভাগে কোরবানি দিচ্ছেন। আবার প্রান্তিক কৃষকরা বাধ্য হয়ে কোরবানি বন্ধ করে দিয়েছেন।

  • মাংসের চড়া দাম: ২০১৪ সালে গরুর মাংসের গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৭৫ টাকা, যা এখন ৮০০ টাকার উপরে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের কোরবানির সিদ্ধান্তের ওপর।

 সরকারি পরিসংখ্যান বনাম বাজারের বাস্তবতা

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দাবি, এ বছর চাহিদার তুলনায় ২২ লাখ ২৭ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। অথচ বিশ্লেষকরা এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

  • গাণিতিক অসঙ্গতি: অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলামের মতে, “পশু উদ্বৃত্ত থাকলে বাজারে দাম কমার কথা, কিন্তু বাস্তবে দাম কেবল বাড়ছেই।”

  • হিসাবের প্রশ্ন: মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংগৃহীত তথ্যের যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদি আসলেই সরবরাহ বেশি থাকত, তবে মাংসের দাম সাধারণের নাগালে থাকার কথা ছিল। বাস্তবে গরু-মহিষের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও, ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে মাংসের দাম

২০১৫ সালে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হওয়ার পর দেশে খামারভিত্তিক উৎপাদন বাড়লেও তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট হয়নি।

  • গরুর মাংস: ৭৮০-৮৫০ টাকা (গত বছর তুলনায় বৃদ্ধি)।

  • খাসির মাংস: ১,২০০-১,৩০০ টাকা (গত বছরের তুলনায় ৫০-১০০ টাকা বৃদ্ধি)।

 বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খান কিছুটা আশাবাদী। তিনি বলছেন, দেশে এবার গণতান্ত্রিক সরকার থাকায় অর্থনীতিতে গতি এসেছে, যার ফলে কোরবানি বাড়তে পারে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। প্রান্তিক পর্যায় থেকে আসা তথ্যমতে, ক্রয়ক্ষমতার অভাবে গ্রামগঞ্জেও কোরবানি করার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি সঠিক পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ের সঠিক উপাত্ত সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়, তবে কোরবানির বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়া রোধ করা সম্ভব হবে না। খামারিরা উৎপাদন খরচ না তুলতে পারলে লোকসানের মুখে পড়বেন, আর সাধারণ মানুষ কোরবানির আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন।

ঈদ আড্ডায় পকেট নিউজের সাথে থাকুন। দেশের অর্থনীতির সর্বশেষ আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের পোর্টালে। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ