আপনার পকেটের টাকা কি টয়লেট সিটের চেয়েও নোংরা

আপনার পকেটের টাকা কি টয়লেট সিটের চেয়েও নোংরা? গবেষণায় উঠে এলো ভয়ংকর তথ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক, পকেট নিউজ | ১২ মে, ২০২৬

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ টাকা। কিন্তু এই প্রয়োজনীয় কাগজের নোট বা ধাতব মুদ্রাই হতে পারে ভয়ংকর সব রোগের উৎস। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাত্যহিক লেনদেনে ব্যবহৃত টাকায় যে পরিমাণ ক্ষতিকর জীবাণু থাকে, তা অনেক সময় একটি ব্যবহৃত টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি। টাকা এক হাত থেকে অন্য হাতে ঘোরে এবং নোংরা পরিবেশে দীর্ঘসময় থাকে বলে এটি হয়ে ওঠে জীবাণুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

টাকা কেন এত জীবাণুযুক্ত?

গবেষকদের মতে, তিনটি প্রধান কারণে টাকা অত্যন্ত নোংরা হয়ে থাকে: 

১. সক্রিয় চলাচল: একটি নোট বা মুদ্রা দিনে মাছের বাজার থেকে শুরু করে হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টার—সবখানেই যায়। ফলে বিভিন্ন পরিবেশের জীবাণু এতে জমা হয়। 

২. আর্দ্রতা ও ছিদ্রযুক্ত গঠন: কাগজের নোটের সূক্ষ্ম তন্তুগুলোতে ঘাম, ধুলাবালু ও আর্দ্রতা সহজেই আটকে থাকে, যা ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ। 

৩. পরিষ্কার না করা: ঘরদোর বা টয়লেট পরিষ্কার করা হলেও টাকা কখনোই জীবাণুমুক্ত করা হয় না, ফলে বছরের পর বছর এতে জীবাণুর স্তর জমতে থাকে।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ফলাফল

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি কাগজের নোটে প্রায় তিন হাজার প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • ই-কোলাই: যা ডায়রিয়া ও প্রস্রাবের নালির ইনফেকশনের জন্য দায়ী।

  • স্ট্যাফাইলোকক্কাস: যা ফুসফুস, ত্বক, হাড় এমনকি ব্রেনে ইনফেকশন ঘটাতে পারে।

  • ছত্রাক ও ভাইরাস: ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাস টাকার নোটে বেশ কয়েক দিন বেঁচে থাকতে পারে।

ভয়ংকর অভ্যাস: আঙুলে থুতু দিয়ে টাকা গোনা

আমাদের দেশে সাধারণ দোকানদার থেকে শুরু করে ব্যাংক কর্মকর্তা—সবার মধ্যেই আঙুলে থুতু লাগিয়ে টাকা গোনার একটি প্রবণতা দেখা যায়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর মাধ্যমে সরাসরি টাকা থেকে জীবাণু মুখে প্রবেশ করে। আবার লালার মাধ্যমে একজনের শরীরের জীবাণু নোটে ছড়িয়ে পড়ে অন্যের সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

সুস্থ থাকার উপায় ও সতর্কতা

আপনার ‘আসল সম্পদ’ অর্থাৎ স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:

  • হাত ধোয়ার অভ্যাস: টাকা নাড়াচাড়া করার পর কোনো কিছু খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে খুব ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

  • ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ: শারীরিক মুদ্রার বিকল্প হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) বা কার্ডের ব্যবহার অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত।

  • শিশুদের সচেতন করা: শিশুরা যেন টাকা মুখে না দেয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন।

  • মানিব্যাগের পরিচ্ছন্নতা: মাঝেমধ্যে মানিব্যাগ পরিষ্কার করুন এবং টাকার সঙ্গে রুমাল বা টিস্যু পেপার রাখবেন না।

টাকা জীবনের প্রয়োজনে লাগবেই, তবে সচেতনতাই পারে এই টাকার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রোগব্যাধি থেকে আপনাকে দূরে রাখতে।


নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন।