Header Ads Widget

Responsive Advertisement

অনলাইনে কোরবানি: ইসলাম কী বলে?

 

অনলাইনে কোরবানি: ইসলাম কী বলে? আধুনিক এই ব্যবস্থায় করণীয় ও সতর্কতার বিস্তারিত গাইডলাইন

অনলাইনে কোরবানি: ইসলাম কী বলে? আধুনিক এই ব্যবস্থায় করণীয় ও সতর্কতার বিস্তারিত গাইডলাইন

ধর্ম ডেস্ক, পকেট নিউজ | ২৪ মে, ২০২৬

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে ব্যস্ততা ও প্রবাসীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনা এবং ‘ভাগে’ কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান পশু জবাই ও গোশত বণ্টনের দায়িত্বও নিচ্ছে। এই আধুনিক ব্যবস্থাকে ইসলাম কীভাবে দেখে এবং শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এর নিয়মাবলি কী, তা নিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে।

 অনলাইনে কোরবানির শরয়ি বৈধতা

ইসলামে নিজের কোরবানি নিজে করা উত্তম হলেও, অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা সম্পূর্ণ বৈধ। ফিকহশাস্ত্রে একে বলা হয় ‘ওয়াকালাহ’। কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ক্রেতার পক্ষ থেকে পশু কেনা ও জবাই করার দায়িত্ব নেয়, তবে তা শরয়িভাবে জায়েজ। ফাতাওয়ায়ে শামি অনুযায়ী, অনুমতি মৌখিক হোক বা কাজের মাধ্যমে প্রকাশিত—অন্যকে কোরবানি জবাই করার অনুমতি দেওয়া বৈধ।

 ভাগে কোরবানি ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ

গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত ব্যক্তি মিলে কোরবানি দিতে পারেন, যা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। তবে শর্ত হলো, প্রত্যেক অংশীদারেরই উদ্দেশ্য হতে হবে ইবাদত। কারণ আমল নির্ভর করে নিয়তের ওপর। প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠিয়ে বা এজেন্সির মাধ্যমে কোরবানি দিলে প্রতিষ্ঠানগুলো আমানতদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ—আমানত তার প্রাপ্য প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়া—প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

⚠️ অনলাইন প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যাবশ্যকীয় শরয়ি নিয়ম

অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে ইবাদতটি কবুল হওয়ার জন্য কিছু বিষয় কঠোরভাবে মানতে হবে: 

১. পশুর বয়স: গরু বা মহিষের বয়স অন্তত দুই বছর এবং ছাগলের বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হবে।

 ২. ত্রুটিমুক্ত পশু: অন্ধ, অত্যন্ত অসুস্থ, লেংড়া কিংবা অতিশয় দুর্বল পশু কোরবানি করা যাবে না। 

৩. নির্ধারিত সময়: জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত—এই সময়ের মধ্যেই কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে বা পরে জবাই করলে কোরবানি শুদ্ধ হবে না।

ক্রেতাদের জন্য সতর্কতা ও পরামর্শ

ইবাদত যেন ত্রুটিমুক্ত হয়, সেজন্য ক্রেতাদের কিছু বিষয়ে সাবধান হতে হবে:

  • প্রতিষ্ঠানের বিশ্বস্ততা যাচাই: হুট করে তৈরি হওয়া ওয়েবসাইট বা পেজ এড়িয়ে পুরোনো ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া।

  • স্বচ্ছতা: পশুর ছবি বা ভিডিওর পাশাপাশি প্রয়োজনে জবাইয়ের সময় ভিডিও ক্লিপ বা ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখার ব্যবস্থা থাকা।

  • চুক্তি স্পষ্ট করা: পশুর ভাগ, চামড়ার টাকা এবং কসাই খরচ নিয়ে চুক্তিতে স্বচ্ছতা রাখা।

  • সতর্কতা: কসাইয়ের পারিশ্রমিক হিসেবে পশুর কোনো অংশ (গোশত বা চামড়া) দেওয়া যাবে না। এটি ইসলামে নিষিদ্ধ।

 শেষ কথা

অনলাইন এজেন্সিগুলো যদি শতভাগ বিশ্বস্ততার সঙ্গে শরয়ি নিয়ম মেনে পশু ক্রয় ও বণ্টন সম্পন্ন করে, তবে এই প্রক্রিয়ায় কোরবানি দিতে কোনো বাধা নেই। তবে মনে রাখা জরুরি, সামর্থ্য থাকলে সশরীরে উপস্থিত থেকে কোরবানি দেওয়া এবং নিজের গোশত নিজ হাতে বণ্টন করার মধ্যে যে আধ্যাত্মিক তৃপ্তি রয়েছে, তা ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই ইবাদতের সওয়াব পেতে প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।

ইসলামি শরিয়াহ ও সমসাময়িক মাসয়ালা-মাসায়েলের সর্বশেষ আপডেট পেতে চোখ রাখুন ‘পকেট নিউজ’-এ। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ