যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান: এক পৃষ্ঠার চুক্তিতে ১৪ দফা প্রস্তাব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ | ৯ মে, ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
আলোচনার কেন্দ্রে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় দুই পক্ষ বর্তমানে এক পৃষ্ঠার একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে কাজ করছে। ১৪ দফার এই খসড়া প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে আলোচনাপ্রক্রিয়া শুরু করা, যার চূড়ান্ত পরিণতি হবে যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
খসড়া প্রস্তাবে যা থাকছে
সূত্রমতে, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারকে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি।
হরমুজ প্রণালি: এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটে উত্তেজনা হ্রাস এবং নৌচলাচল নিরাপদ রাখা।
ইউরেনিয়াম স্থানান্তর: ইরানের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের সম্ভাব্য প্রস্তাব।
প্রধান বাধা ও জটিলতা
আলোচনা শুরুর গুঞ্জন থাকলেও বেশ কিছু বড় ইস্যুতে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে চরম মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। তেহরান চায় আলোচনার শুরুতেই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক, যা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পায়নি। এই মতভেদ আলোচনার অগ্রগতিকে জটিল বা বিলম্বিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সকল প্রকার মুভি ড্রামা সিরিজ একসাথে
কোন সাবস্ক্রিপশন ফি ছাড়াই ফ্রি দেখুন
আলোচনার মেয়াদ ও ভবিষ্যৎ
প্রাথমিকভাবে দুই পক্ষের সম্মতিতে এক মাসের একটি সংলাপের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোলে এবং দুই পক্ষ সম্মত হলে এই মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ