ওবেসিটির সীমানায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প: চিকিৎসকের পরামর্শে ওজন কমানোর তাগিদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ | ৩০ মে, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিক্যাল সেন্টারে সম্পন্ন হওয়া এই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রেসিডেন্টের সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা ‘শক্তিশালী’ বলে উল্লেখ করা হলেও, তাঁর ওজন বৃদ্ধি এবং কিছু শারীরিক জটিলতা নিয়ে চিকিৎসকেরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আগামী ১৪ জুন ৮০ বছর পূর্ণ করতে যাওয়া প্রেসিডেন্টকে ওজন কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের প্রধান দিকসমূহ
প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. শন পি. বারবাবেলার প্রকাশিত তিন পাতার প্রতিবেদন অনুযায়ী:
ওজন বৃদ্ধি: গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় প্রেসিডেন্টের ওজন ১৪ পাউন্ড বেড়েছে। বর্তমানে তাঁর ওজন ২৩৮ পাউন্ড, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় স্থূলতা বা ওবেসিটির সীমার কাছাকাছি।
হৃদ্যন্ত্র ও রক্তচাপ: ট্রাম্পের উচ্চ কোলেস্টেরলের ইতিহাস রয়েছে। তাঁর এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ‘ক্রিস্টর’ ও ‘জেটিয়া’ ওষুধ গ্রহণ করছেন। এছাড়া হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে তিনি নিয়মিত উচ্চমাত্রার অ্যাসপিরিন সেবন করেন।
মানসিক স্বাস্থ্য: ট্রাম্পের স্নায়বিক পরীক্ষার অন্যতম ধাপ ‘মোকা’ (Montreal Cognitive Assessment)-এ তিনি ৩০-এ ৩০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন, যা ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারের মতো মানসিক সমস্যার অনুপস্থিতি নিশ্চিত করে।
শারীরিক জটিলতা ও ব্যাখ্যা
প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্টের বেশ কিছু শারীরিক লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে:
হাতে কালশিটে দাগ: প্রেসিডেন্টের হাতে প্রায়ই দেখা যাওয়া কালশিটে দাগগুলোকে নিয়মিত অ্যাসপিরিন থেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পায়ে ফোলাভাব: ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’-এর কারণে তাঁর পায়ের নিচের অংশে সামান্য ফোলাভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে চিকিৎসক দাবি করেছেন, এটি গত বছরের তুলনায় ভালো অবস্থায় রয়েছে।
অন্যান্য: ট্রাম্পের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা
দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাস্থ্যগত স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাঁর পূর্ববর্তী চিকিৎসকেরা তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরঞ্জিত বা অস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ সালে তৎকালীন চিকিৎসক মন্তব্য করেছিলেন, উন্নত খাদ্যাভ্যাস থাকলে ট্রাম্প ২০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারতেন! ট্রাম্প নিজেও অতীতে তাঁর স্বাস্থ্য রেকর্ডের অনেক তথ্য প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
বর্তমানে ওবেসিটি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকেরা তাঁকে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং ওজন কমানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নিজে এ বিষয়ে রসিকতা করলেও, আসন্ন নির্বাচনী আবহে ও বয়সের ভারে ট্রাম্পের এই স্বাস্থ্য প্রতিবেদন মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
নিউজ’-এ।
পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর।


0 মন্তব্যসমূহ