Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে! বিজয় দিবসে পুতিনের বড় ইঙ্গিত

 


ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে! বিজয় দিবসে পুতিনের বড় ইঙ্গিত ও পশ্চিমা বিশ্বকে দোষারোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ| ১০ মে, ২০২৬

দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন সংঘাত কি অবশেষে সমাপ্তির দিকে? রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে অন্তত এমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে। মস্কোর রেড স্কয়ারে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেছেন, “আমার মনে হয়, বিষয়টি শেষের দিকে এগোচ্ছে।”

বিজয় দিবসে ‘জয়ের’ হুংকার

৯ মে রাশিয়ার ‘ভিক্টরি ডে’ বা বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে পুতিন ইউক্রেনে রাশিয়ার লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে হারানোর গৌরব স্মরণ করে তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “জয় সব সময় আমাদেরই হয়েছে, আমাদেরই হবে।” এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেন। তবে যুদ্ধটি ঠিক কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় শেষ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ক্রেমলিন প্রধান।

পশ্চিমা নেতাদের ওপর দায় চাপালেন পুতিন

ক্রেমলিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি ‘গ্লোবালিস্ট’ পশ্চিমা নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ন্যাটো পূর্ব দিকে আর সম্প্রসারিত হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাব বলয়ে আনার চেষ্টার মাধ্যমেই এই সংঘাতের সূচনা করা হয়েছে।

সীমিত পরিসরে কুচকাওয়াজ ও স্নায়ুযুদ্ধের আবহ

প্রতিবছর ৯ মে বিশাল সমরাস্ত্র প্রদর্শনী হলেও গত কয়েক বছরের মতো এবারও মস্কোর কুচকাওয়াজ ছিল বেশ সীমিত। সরাসরি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা ট্যাংকের মহড়ার পরিবর্তে ক্রেমলিনের বিশাল পর্দায় সামরিক সরঞ্জামের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ১৯৬২ সালের কিউবার মিসাইল সংকটের পর সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

শান্তি আলোচনা ও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ৯ মে থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের এক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে, যা আগামীকাল ১১ মে শেষ হবে। যদিও ক্রেমলিন জানিয়েছে যে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া মূল শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে, তবে পুতিন ইউরোপের জন্য নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পছন্দ করছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করে পুতিন আবারও আলোচনার টেবিলে বসার যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাকে বিশ্ব রাজনীতির বড় মোড় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ