ঘরে বসেই মিলবে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ: ‘ই-লোন’ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ১২ মে, ২০২৬
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি ও দেশে ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ বা নগদবিহীন সমাজ বিনির্মাণে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের জন্য ‘ই-লোন’ বা ডিজিটাল ঋণ সুবিধা চালু করতে পারবে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ঋণের জন্য আর সশরীরে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
ঘরে বসে ঋণ: সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে জারি করা নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, গ্রাহকরা ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ বা ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে এই ঋণ নিতে পারবেন।
ঋণের পরিমাণ: একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
মেয়াদ: এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর।
ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায়
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, গ্রাহক নির্বাচন থেকে শুরু করে ঋণ বিতরণ এবং কিস্তি আদায়—সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।
বায়োমেট্রিক পরিচয়: ঋণের আবেদনের জন্য সশরীরে উপস্থিত হয়ে সই করার প্রয়োজন নেই। বায়োমেট্রিক তথ্যের মাধ্যমেই গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা: গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় ওটিপি (OTP), টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সুদের হার ও অন্যান্য শর্তাবলি
ব্যাংকগুলো এই ঋণের ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক সুদের হার নির্ধারণ করতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংক যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় এই ঋণ দেয়, তবে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ।
জরুরি কিছু শর্ত:
১. পাইলটিং কার্যক্রম: বাণিজ্যিকভাবে এই ঋণ চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে অন্তত ৬ মাস পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলটিং’ কার্যক্রম চালাতে হবে এবং এর সফলতার রিপোর্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
২. সিআইবি রিপোর্ট: ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আপাতত কিছুটা শিথিলতা থাকলেও, ঋণ বিতরণের পর অবশ্যই সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। তবে সিআইবি রিপোর্টের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া যাবে না।
৩. খেলাপিদের জন্য নয়: কোনো অবস্থাতেই খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এই ডিজিটাল ঋণ সুবিধা পাবেন না। তথ্য গোপন করে ঋণ নিলে তা ধরা পড়ার সাথে সাথে সমন্বয় করতে হবে।
ডেটা সুরক্ষা ও প্রতিবেদন
গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও ঋণ সংক্রান্ত সব তথ্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ডেটা ওয়্যারহাউজে সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে প্রতি প্রান্তিকে এবং মাসিক ভিত্তিতে এই ঋণের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির এই প্রসার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন।

0 মন্তব্যসমূহ