Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বৃষ্টি এলেই কেন শরীর ম্যাজম্যাজ করে? ঘুমের পেছনে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের দারুণ ব্যাখ্যা

 

বৃষ্টি এলেই কেন শরীর ম্যাজম্যাজ করে? ঘুমের পেছনে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের দারুণ ব্যাখ্যা

বৃষ্টি এলেই কেন শরীর ম্যাজম্যাজ করে? ঘুমের পেছনে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের দারুণ ব্যাখ্যা

ফিচার ডেস্ক, পকেট নিউজ | ২৮ মে, ২০২৬

বাইরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি, আকাশ মেঘলা আর চারপাশটা ধূসর। এমন আবহাওয়ায় আলসেমি আর ঘুমের তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, বৃষ্টির দিনে কেন আমাদের শরীর এত বেশি ক্লান্ত লাগে আর কেনই বা বারবার ঘুম পায়? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে কাজ করে আমাদের শরীরের ভেতরের বিশেষ কিছু হরমোন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব।

 হরমোনের কারসাজি: মেলাটোনিন বনাম সেরোটোনিন

আমাদের ঘুমের চক্র মূলত নিয়ন্ত্রিত হয় দুই ধরনের হরমোন দিয়ে। সূর্যের আলো শরীরে ‘সেরোটোনিন’ (সুখের হরমোন) তৈরিতে সাহায্য করে, যা আমাদের শরীরকে সজাগ ও প্রফুল্ল রাখে। অন্যদিকে, ‘মেলাটোনিন’ হরমোন আমাদের ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে।

বৃষ্টির দিনে আকাশে ঘন মেঘের আস্তরণ থাকায় পর্যাপ্ত সূর্যালোক পৌঁছাতে পারে না। সূর্যের আলোর অভাবে আমাদের মস্তিষ্ক ‘রাতের পরিবেশ’ ভেবে মেলাটোনিনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় এবং সেরোটোনিনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ফলে শরীর অবচেতনভাবেই ঝিমিয়ে পড়ে এবং ঘুমের আমেজ চলে আসে।

 বায়ুমণ্ডল ও আর্দ্রতার প্রভাব

বৃষ্টির দিনে শরীরে ক্লান্তি ভর করার আরও কিছু কারণ রয়েছে:

  • আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা: বর্ষাকালে বাতাসে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা অনেক বেশি থাকে। এই আর্দ্র পরিবেশে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে শরীরকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যা আমাদের দ্রুত ক্লান্ত করে তোলে।

  • নিম্নচাপ ও অক্সিজেনের ঘাটতি: ঝড় বা বৃষ্টির সময় বায়ুমণ্ডলের চাপ কমে যায় (নিম্নচাপ)। এতে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে, যা আমাদের শরীরে ক্লান্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্নতা তৈরি করে।

 বৃষ্টির শব্দ: প্রাকৃতিকভাবেই শান্তিদায়ক

বৃষ্টির একটানা শব্দকে বিজ্ঞানীরা ‘পিঙ্ক নয়েজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এটি অনেকটা ‘হোয়াইট নয়েজ’-এর মতো কাজ করে, যা চারপাশের অন্য সব বিরক্তিকর শব্দকে ঢেকে দেয়। এই একটানা ছন্দময় শব্দ আমাদের মনকে শান্ত করে এবং শরীরকে গভীর ঘুমের উপযোগী করে তোলে।

বর্ষার বিষণ্ণতা (স্যাড)

অনেকের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে একধরনের মানসিক বিষণ্ণতা দেখা দেয়, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার’ (SAD) বলা হয়। পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাবে অনেকে মানসিকভাবে কিছুটা নিস্তেজ বোধ করেন। এ থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষজ্ঞরা ‘লাইট থেরাপি’ বা কৃত্রিম তীব্র আলোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

 বৃষ্টির দিনে ক্লান্তি দূর করবেন কীভাবে?

বৃষ্টির দিনে অলসতা জেঁকে বসলে শরীরকে সচল রাখা জরুরি: ১. ব্যায়াম: অলসতা ঝেড়ে ফেলে হালকা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করুন। ২. পানীয়: কফি বা চায়ের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। ৩. সতেজ থাকা: শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ঘরের আলো বাড়িয়ে দিন অথবা হালকা কাজকর্মে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

বৃষ্টির দিনে আপনার এই ঘুমের আমেজকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; বরং এটিকে প্রকৃতির এক অনন্য উপহার হিসেবে মেনে নিয়ে উপভোগ করাই সেরা সমাধান!

এমন আরও জানা-অজানা তথ্যের আপডেট পেতে চোখ রাখুন ‘পকেট নিউজ’-এ। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ