২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপ: জিদানের ঢুস থেকে শুরু করে ‘বোমা’ আতঙ্ক—কিছু অজানা উপাখ্যান
ক্রীড়া ডেস্ক, পকেট নিউজ | ২৯ মে, ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০০৬ সালের জার্মানি আসরটি আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। মাঠে ইতালি ও ফ্রান্সের উত্তেজনাকর লড়াই, জিদানের সেই ঐতিহাসিক ‘হেডবাট’ বা বিশ্বজুড়ে নানা অদ্ভুত ঘটনার কারণে এই বিশ্বকাপটি হয়ে আছে এক আকর গ্রন্থ। আজ আমাদের বিশেষ আয়োজনে থাকছে ২০০৬ বিশ্বকাপের কিছু জানা-অজানা রোমাঞ্চকর ঘটনা।
জিদানের সেই ঢুস ও বিষাদ
ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জির বুকে জিনেদিন জিদানের সেই ঢুস দেওয়া ছিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা। ম্যাচের চেয়েও বেশি চর্চিত হয়েছে জিদানের লাল কার্ড পাওয়ার মুহূর্তটি। ম্যাচ শেষে জিদান জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রতিক্রিয়ার জন্য কোনো অনুশোচনা নেই, তবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার বেদনা তাঁকে আজও তাড়া করে।
স্টেডিয়ামে বোমা আতঙ্ক!
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়াম চত্বরে মিলেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের অবিস্ফোরিত এক বোমা! ভাগ্য ভালো যে, পরীক্ষা করে দেখা যায় বোমাটিতে বিস্ফোরক ছিল না। সেই মালি যদি বোমাটি না খুঁজে পেতেন, তবে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অন্য কোনো বড় ট্র্যাজেডি হয়তো লেখা থাকত।
ধূমপানমুক্ত ফুটবলের সূচনা
২০০৬ বিশ্বকাপ ছিল ফুটবলের ইতিহাসে ধূমপানবিরোধী পদক্ষেপের এক মাইলফলক। ১৯৯৮ সালেও যেখানে ফিফা কোচের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চায়নি, সেখানে ৮ বছর পর জার্মানি বিশ্বকাপে ফিফা ঘোষণা দেয়, ‘টেকনিক্যাল এরিয়া ও বদলি বেঞ্চে’ ধূমপান করা যাবে না। মেক্সিকোর তৎকালীন কোচ রিকার্ডো লা ভোলপেকে নিয়ম ভাঙায় প্রথম লিখিত সতর্কবার্তা পেতে হয়েছিল।
চোরের অদ্ভুত বোকামি
ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের টিকিট চুরি করে স্টেডিয়ামে ঢুকে এক চোর রীতিমতো বিপদে পড়ে গিয়েছিল। সে জানত না, তার পাশের আসনেই বসে আছেন সেই ব্যক্তি, যার স্ত্রীর ব্যাগ থেকে সে টিকিট চুরি করেছিল! পুলিশ তাকে আটক করার পর চোর হয়তো নিজের কপালকেই দোষারোপ করেছিল।
লেহমানের সেই গোপন কাগজ
জার্মানির গোলরক্ষক জেনস লেহমানের মোজার ভেতরে লুকিয়ে রাখা এক টুকরো কাগজ ছিল সেই বিশ্বকাপের অন্যতম ‘শিল্পকর্ম’। আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা পেনাল্টিতে কীভাবে শট নেবেন, তার তথ্য ছিল সেই কাগজে। কোচিং স্টাফের দেওয়া সেই কৌশল মেনেই লেহমান কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানিকে জিতিয়েছিলেন, যা এখন জার্মানির মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।
অধিনায়কের আর্মব্যান্ড নিয়ে কাণ্ড
অ্যাঙ্গোলা দলের ক্ষেত্রে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটেছিল—একটি ম্যাচে তাদের অধিনায়কত্ব ঘুরেছে একাধিক খেলোয়াড়ের হাতে! আবার তিউনিসিয়ার রিয়াদ বোয়াজিজি ছিলেন সেই বিশ্বকাপের একমাত্র অধিনায়ক যিনি প্রতিটি ম্যাচেই বদলি হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন।
‘আমি জানি না!’
বিশ্বকাপে জাতীয় সংগীত গাইতে না পারাটা বড় অপরাধ মনে হতে পারে, কিন্তু ইতালির মাউরো কামোরানেসি ছিলেন ব্যতিক্রম। আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড় সরাসরিই জানিয়েছিলেন, তিনি ইতালির জাতীয় সংগীত জানেন না বলেই তা গান না! অন্যদিকে, সাউন্ড অপারেটরের ভুলে টোগোর খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গাইতে না পেরে ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
বাবার চাপে ছেলের প্রত্যাহার
স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আর চাপের মুখে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর কোচ ইলিজা পেতকোভিচ তাঁর ছেলে দুসান পেতকোভিচকে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। দুসানের ভাষায়, “বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়াটা আমার বাবার জন্য খুব বেশি চাপ হয়ে গিয়েছিল।”
ফুটবলের এমন রোমাঞ্চকর ও ঐতিহাসিক ঘটনার নিয়মিত আপডেট পেতে চোখ রাখুন ‘পকেট নিউজ’-এ।
পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সব খবর।


0 মন্তব্যসমূহ