Header Ads Widget

Responsive Advertisement
📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 হরমুজে আটকে থাকা ১১ হাজার নাবিককে সরাতে আইএমওর অভিযান শুরু ------ || ------ 📢 বিশ্বকাপ ফুটবল (শেষ ৩২)-- যুক্তরাষ্ট্র বনাম বসনিয়া সময়: সকাল ৬:০০টা, স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া সময়: রাত ১:০০টা, পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া সময়: আগামীকাল (৩ জুলাই) ভোর ৫:০০টা, সম্প্রচার: বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভি। ------ || ------ 📢 ঢাকায় অপরাধের লাগাম টানতে হিমশিম প্রশাসন, সক্রিয় ১১৭ অপরাধী চক্র; প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ

রেকর্ড ভাঙার পথে ২০২৬: কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় স্পেসএক্স

 

রেকর্ড ভাঙার পথে ২০২৬: কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় স্পেসএক্স বা ওপেনএআই-এর মতো মেগা কোম্পানি?

রেকর্ড ভাঙার পথে ২০২৬: কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় স্পেসএক্স বা ওপেনএআই-এর মতো মেগা কোম্পানি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ | ১৭ মে, ২০২৬

গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে বিভিন্ন কোম্পানি সংগ্রহ করেছিল প্রায় ৭ হাজার কোটি (৭০ বিলিয়ন) ডলার। তবে চলতি ২০২৬ সালে সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কারণ ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’, চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ‘ওপেনএআই’ এবং এআই স্টার্টআপ ‘অ্যানথ্রোপিক’—বিশ্ব কাঁপানো এই প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এবার মার্কিন শেয়ারবাজারে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই আর্থিক বাজারে কোনো কোম্পানির তালিকাভুক্ত হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (IPO)। একটি কোম্পানির আইপিও সম্পন্ন করতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এবং এতে খরচ হতে পারে লাখ লাখ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে একটি কোম্পানি ঠিক কোন কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তালিকাভুক্ত হয়, তা নিচে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো

১. প্রভাবশালী শেয়ারবাজার ও ‘টিকার’ নির্বাচন

আইপিওর যাত্রায় একটি কোম্পানির প্রথম কাজ হলো তারা কোন এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হবে তা নির্ধারণ করা। যুক্তরাষ্ট্রে মূলত দুটি শেয়ারবাজার সবচেয়ে প্রভাবশালী, যা বিশ্বজুড়ে লেনদেন হওয়া মোট শেয়ার মূল্যের প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে:

  • নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (NYSE): এটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ও বিখ্যাত শেয়ারবাজার। এর ঐতিহ্যবাহী ফিজিক্যাল ট্রেডিং ফ্লোরটি নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটানে অবস্থিত।

  • ন্যাসড্যাক (Nasdaq): এটি সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর একটি শেয়ারবাজার। বিশ্বের বড় বড় সব টেক জায়ান্টদের প্রথম পছন্দ ন্যাসড্যাক।

শেয়ারবাজার চূড়ান্ত করার পর কোম্পানিকে একটি ‘টিকার’ (Ticker) বা সংক্ষিপ্ত কোড বেছে নিতে হয়। যেমন—মাইক্রোসফটের টিকার ‘MSFT’। অনেক কোম্পানি আবার বেশ সৃজনশীল টিকার বেছে নেয়; যেমন ডোনাট কোম্পানি ক্রিসপি ক্রিমের টিকার ‘DNUT’ (ডোনাট) কিংবা গাড়ি ভাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠান এভিসের টিকার ‘CAR’ (কার)।

২. ‘এস-১’ (S-1) নথি জমা ও ওয়াল স্ট্রিটের রেফারি

সাধারণ মানুষের কাছে শেয়ার বিক্রির আগে কোম্পানিগুলোকে মার্কিন বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (SEC) কাছে ‘এস-১’ নামের একটি অত্যন্ত বিস্তারিত আইনি নথি জমা দিতে হয়। এসইসি-কে মূলত বলা হয় ‘ওয়াল স্ট্রিটের রেফারি’।

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগ্যান চেজের মতে, এস-১ নথির মূল উদ্দেশ্য দুটি—এসইসির কাছে সিকিউরিটিজ নিবন্ধন করা এবং বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, ব্যবসায়িক মডেল ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো।

এসইসি এই নথি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে এবং একাধিক দফায় কোম্পানির কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন বা ব্যাখ্যা চাইতে পারে। সম্প্রতি এসইসির চেয়ারম্যান পল অ্যাটকিনস জানান, এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সাধারণত কয়েক মাস সময় লেগে যায়, তবে তারা এটি আরও দ্রুত করার জন্য কাজ করছেন।

ভেতরের খবর: সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহেই বহুল প্রতীক্ষিত ‘স্পেসএক্স’ তাদের এস-১ নথি জমা দিতে পারে।

 

৩. ‘রোড শো’ বা বিনিয়োগ টানার প্রচার

কাগজপত্রের কাজ শুরু হওয়ার পর কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে দেশ-বিদেশে প্রচারণায় নামেন, যাকে বলা হয় ‘রোড শো’। এখানে পেনশন ফান্ড, হেজ ফান্ডের মতো বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি সাধারণ খুচরা বিনিয়োগকারীদের কাছেও কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও পরিকল্পনা ভিডিও কল বা সরাসরি সেমিনারের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্স আগামী জুনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ব্যক্তিগত বড় বিনিয়োগকারীর জন্য একটি বিশেষ রোড শোর আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে।

তবে সব কোম্পানি এই ধাপ সফলভাবে পার করতে পারে না। যেমন, গত ফেব্রুয়ারিতে ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘ক্লিয়ার স্ট্রিট’ বাজারের অস্থিরতা এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগকারীর আগ্রহের অভাবে শেষ মুহূর্তে তাদের আইপিও পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়।

৪. শেয়ারের দাম নির্ধারণ: গণিত ও শিল্পের মিশেল

আইপিও প্রক্রিয়ার সবচেয়ে জটিল ও কঠিন ধাপ হলো শেয়ারের উদ্বোধনী মূল্য নির্ধারণ করা। রেনেসাঁ ক্যাপিটালের আইপিও বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ কেনির মতে, "আইপিওর মূল্য নির্ধারণ করা পুরোপুরি গাণিতিক হিসাবের বিষয় নয়, এটি একটি শিল্পসুলভ বিচারও।"

কোম্পানির পরামর্শক ব্যাংকগুলো সবসময় চায় সর্বোচ্চ মূল্যে শেয়ার বাজারে ছাড়তে। কিন্তু দাম যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ধরা হয়, তবে লেনদেনের প্রথম দিনেই শেয়ারের দাম ধসে পড়তে পারে, যা আইপিও-কে ব্যর্থ করে দেয়। তাই এমন একটি যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করতে হয় যেন বাজারে আসার পর দাম আরও বাড়ার সুযোগ থাকে।

যেমন—চিপ স্টার্টআপ ‘সেরেব্রাস’ শেয়ারবাজারে আসার আগে দুবার তাদের লক্ষ্যমাত্রার মূল্য সংশোধন করে শেষপর্যন্ত প্রতি শেয়ারের দাম ১৮৫ ডলার নির্ধারণ করে। সঠিক মূল্যায়নের কারণে লেনদেনের প্রথম দিনেই তাদের শেয়ারের দাম রেকর্ড ৬৮ শতাংশ বেড়ে যায়।

স্পেসএক্স এবং ওপেনএআই-এর মতো টেক জায়ান্টরা এই পুরো প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করে ২০২৬ সালে মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন কোনো ইতিহাস লেখে কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ