Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ঘাড় ও মেরুদণ্ডের নীরব ঘাতক ‘সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস

 

ঘাড় ও মেরুদণ্ডের নীরব ঘাতক ‘সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস

ঘাড় ও মেরুদণ্ডের নীরব ঘাতক ‘সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস’: লক্ষণ ও প্রতিকার

স্বাস্থ্য ডেস্ক, পকেট নিউজ | ১২ মে, ২০২৬

বর্তমান যুগে যান্ত্রিক জীবনযাপন এবং দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করার ফলে ঘাড় ও মেরুদণ্ডের ব্যথায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ঘাড় ও মেরুদণ্ডের জয়েন্টের এই ক্ষয়জনিত রোগকে বলা হয় ‘সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস’। সময়মতো সচেতন না হলে এই রোগ একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।

কেন হয় এই রোগ?

সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের প্রধান কারণ হলো বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয়। তবে আধুনিক জীবনযাত্রায় আরও কিছু কারণে এই রোগ বাড়ছে:

  • দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকা: কম্পিউটার বা ল্যাপটপে দীর্ঘক্ষণ ঘাড় বাঁকিয়ে কাজ করলে ডিস্কের ওপর চাপ পড়ে।

  • ডিস্কের পরিবর্তন: হাড়ের মধ্যবর্তী ডিস্কের আর্দ্রতা কমে গেলে ঘর্ষণের ফলে নতুন হাড় বা ‘স্পার’ তৈরি হয়, যা এই রোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

  • ভুল বালিশের ব্যবহার: ঘুমানোর সময় খুব বেশি শক্ত বা অতিরিক্ত নরম বালিশ ব্যবহার করা।

  • আঘাত ও বংশগতি: আগে পাওয়া কোনো চোট বা বংশগত কারণেও কম বয়সে এই রোগ হতে পারে।

  • অন্যান্য রোগ: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো রোগ থেকেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বুঝবেন যেভাবে (লক্ষণসমূহ)

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি: 

১. ঘাড় ব্যথাসহ ঘাড় পুরোপুরি শক্ত হয়ে যাওয়া। 

২. পিঠের মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভব করা।

 ৩. ঘাড়ের ব্যথা হাতের আঙুল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া। 

৪. হাত অবশ হওয়া বা শিন শিন/ঝিম ঝিম করা। 

৫. মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো এবং বমি বমি ভাব।

চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি

সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকরা সাধারণত নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করেন:

  • ওষুধ: ব্যথা কমাতে ব্যথানাশক এবং মাংসপেশি নরম রাখতে মাসল রিলাক্স্যান্ট দেওয়া হয়। এছাড়া স্নায়ু ভালো রাখতে ভিটামিন বি১, বি৬ ও বি১২ কার্যকর। তীব্র ব্যথায় ক্ষেত্রবিশেষে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়।

  • ফিজিওথেরাপি: এই রোগের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট ব্যায়ামের মাধ্যমে হাড়ের কার্যক্ষমতা বাড়ানো হয়।

  • ইলেকট্রোথেরাপি: গরম তাপ দেওয়ার মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন বাড়ানো হয় এবং ট্র্যাকশনের মাধ্যমে স্নায়ুর ওপর হাড়ের চাপ কমানো হয়। এতে হাতের অবশ ভাব দ্রুত কমে আসে।

  • সার্জারি: যদি ওষুধ বা থেরাপিতে কাজ না হয় এবং হাঁটাচলা করতে বা মলমূত্র ত্যাগে সমস্যা দেখা দেয়, তবে শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

পরামর্শ: দীর্ঘক্ষণ কাজ করার মাঝে বিরতি নিন, ঘাড়ের ব্যায়াম করুন এবং সঠিক উচ্চতার বালিশ ব্যবহার করুন। সুস্থ মেরুদণ্ডই সুস্থ জীবনের ভিত্তি।

হাতের মুঠোয় সকল খবর — পকেট নিউজ-এর সাথেই থাকুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ