Header Ads Widget

Responsive Advertisement

রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচনই বড় চ্যালেঞ্জ: সিইসি

 

রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচনই বড় চ্যালেঞ্জ: সিইসি

রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচনই বড় চ্যালেঞ্জ: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক| পকেট নিউজ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাণহানির বহু ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি বন্ধ করাই এখন নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনকে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ‘বিরাট চ্যালেঞ্জ’ বললেন সিইসি

অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশে সবচেয়ে বেশি সংঘাতপূর্ণ নির্বাচনের একটি। অতীতের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে এবার কমিশন বিশেষ সতর্কতা নিয়ে কাজ করতে চায়।

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে—

  • ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ
  • ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ
  • ৬১টি জেলা পরিষদ
  • ১৩টি সিটি করপোরেশন
  • প্রায় ৩৩০টি পৌরসভা

নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

এত বড় পরিসরের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অতীতের সহিংসতার তথ্য তুলে ধরলেন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে সিইসি বলেন, বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য উদ্বেগজনক।

তিনি জানান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত হন। অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিহত হন ১১৬ জন।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রভাব বিস্তার, দলীয় বিভাজন এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সহিংসতা বেশি দেখা যায়।

রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চাইল ইসি

রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন সিইসি।

তিনি বলেন, শুধু নির্বাচন কমিশনের পক্ষে একা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সহনশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ঋণখেলাপিদের নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্তব্য

ঋণখেলাপিদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না তিনি।

তবে নির্বাচন কমিশন কোনো ক্ষেত্রে ‘বাছাই করে’ সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ কমিশনের জন্য অভিজ্ঞতা রেখে যেতে চায় বর্তমান ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলমান কর্মশালার প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, কোথায় কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি নির্বাচন কমিশন সাধারণত একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করেই দায়িত্ব শেষ করে। পরবর্তী কমিশন আবার নতুন করে কাজ শুরু করে। তাই বর্তমান কমিশন ভবিষ্যতের জন্য নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও কার্যকর পদ্ধতি রেখে যেতে চায়।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ