Header Ads Widget

Responsive Advertisement

রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ আর নয়: সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা

 

রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ আর নয়: সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা

রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ আর নয়: সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২১ মে, ২০২৬

দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ৭ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ-সংক্রান্ত নথিতে অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে বজায় থাকা বসুন্ধরা গ্রুপের একক আধিপত্যের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাটি এতদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর জায়গা জুড়ে নিজস্ব নিয়ম-নীতিতে পরিচালিত হচ্ছিল। সিটি করপোরেশনের নাগরিক সুবিধা, গৃহকর আদায় বা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো নিয়ন্ত্রণ সেখানে ছিল না। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকাটি যেন রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র হয়ে উঠেছিল।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্র বলছে, নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্চ মাসেই এলাকাটিকে ডিএনসিসির অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সাধারণ মানুষের ওপর ‘অতিরিক্ত খরচের’ বোঝা

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জমি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে মালিকদের ওপর নানা ধরনের আর্থিক বোঝা চাপানো হতো:

  • জমি কেনায় বাড়তি ফি: ব্যক্তিমালিকানা থেকে জমি কিনলে কাঠাপ্রতি ৫ লাখ টাকা (জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আগে ১০ লাখ) বসুন্ধরা গ্রুপকে দিতে হতো।

  • সার্ভিস চার্জ: ফ্ল্যাট মালিকদের বাধ্যতামূলকভাবে ‘বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’কে বর্গফুটপ্রতি সার্ভিস চার্জ দিতে হয়।

  • অন্যান্য ব্যবসা: ইন্টারনেট, ডিশ সংযোগ, গ্যাস, পানি এবং নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রেও গ্রুপটির নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য ছিল।

বাধা ও সময়ক্ষেপণের কৌশল

সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্তির এই উদ্যোগ নতুন নয়। ২০১৬ সালে তৎকালীন সরকার গেজেট প্রকাশ করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এবারও বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ‘সময় চেয়ে’ প্রক্রিয়াটি ধীরগতির করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা রাজউকের সঙ্গে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত চুক্তির দোহাই দিলেও, রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের বিষয়ে এমন কোনো চুক্তি হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।

সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে এলে যা পরিবর্তন হবে:

  • নাগরিক অধিকার: সিটি করপোরেশন এলাকাটির রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ এবং নাগরিক সুবিধাদির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে।

  • কর কাঠামো: বাসিন্দারা ‘বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র বদলে সরকার-নির্ধারিত হোল্ডিং ট্যাক্স (গৃহকর) প্রদান করবেন।

  • নিরাপত্তা ও প্রশাসন: এলাকায় পুলিশের পৃথক থানা স্থাপন করা হবে। নিজস্ব নিরাপত্তাবাহিনীর পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এলাকাটির শৃঙ্খলা বজায় রাখবে।

  • বাণিজ্যিক উন্মুক্ততা: এলাকাটি সবার জন্য উন্মুক্ত হবে এবং দোকানপাট ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স ও বিধি অনুযায়ী চলবে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

নগর-পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, "রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র থাকতে পারে না। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা আইনগত বাধ্যবাধকতা। বসুন্ধরা এলাকা এতদিন সিটি করপোরেশনের বাইরে ছিল, যা ছিল আইন পরিপন্থী।"

অন্যদিকে, বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী জানান, তারা সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন এবং পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবস্থান জানাবেন।

বর্তমানে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে এলাকাটির প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা তৈরি করবে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পরিবর্তনের প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট এবং ঢাকা শহরের নাগরিক খবরের নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য চোখ রাখুন ‘পকেট নিউজ’-এ। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ