Header Ads Widget

Responsive Advertisement

রিয়েলিটি শো-এর আড়ালে অন্ধকার জগত

 

রিয়েলিটি শো-এর আড়ালে অন্ধকার জগত: এমএএফএস ইউকে’র শুটিংয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, সরল বিতর্কিত পর্ব

রিয়েলিটি শো-এর আড়ালে অন্ধকার জগত: এমএএফএস ইউকে’র শুটিংয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, সরল বিতর্কিত পর্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ | ২০ মে, ২০২৬

যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট ইউকে’ (এমএএফএস ইউকে) নিয়ে উঠেছে ভয়াবহ অভিযোগ। অনুষ্ঠানের শুটিং চলাকালে অন্তত তিনজন নারী তাঁদের অনস্ক্রিন সঙ্গীদের দ্বারা ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে চ্যানেল ৪ কর্তৃপক্ষ।

নারীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তিন নারী তাঁদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণের নামে তাঁরা এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন।

  • ধর্ষণ ও হুমকি: লিজি (ছদ্মনাম) নামের এক নারী অভিযোগ করেছেন, তাঁর অনস্ক্রিন স্বামী তাঁকে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেছেন এবং প্রতিবাদ করলে অ্যাসিড হামলার হুমকি দিয়েছেন। ঘটনার পর তিনি ওয়েলফেয়ার দলকে শরীরের কালশিটে দাগও দেখিয়েছিলেন।

  • জোরপূর্বক যৌনকর্ম: ক্লোই (ছদ্মনাম) নামের দ্বিতীয় নারী অভিযোগ করেছেন, ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর অনস্ক্রিন স্বামী যৌন অসদাচরণ করেছেন। চিৎকার করে থামতে বললেও তিনি শোনেননি। শুটিং চলাকালীন একাধিকবার এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন তিনি।

  • সুরক্ষার অভাব: শোনা ম্যান্ডারসন নামের তৃতীয় নারী জানান, তাঁর সঙ্গী যৌন সম্পর্কের সব সীমা অতিক্রম করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রযোজনা সংস্থা সিপিএল (CPL) অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম ব্যবস্থা নেয়নি।

চ্যানেল ৪-এর বিতর্কিত ভূমিকা

অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, লিজি ও ক্লোইয়ের মতো নারীরা অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের আগেই কর্তৃপক্ষকে তাঁদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিষয়ে জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ পাওয়ার পরও চ্যানেল ৪ ও প্রযোজনা সংস্থা সিপিএল সেসব পর্ব স্ট্রিমিং ও টিভি সম্প্রচারে বাধা দেয়নি।

বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর চাপের মুখে গতকাল সোমবার বিকেলে চ্যানেল ৪ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে—তারা ওই বিতর্কিত পর্বগুলো তাদের প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলেছে।

উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ’ ফরম্যাট

সৃজনশীল শিল্প খাতের তদারকি সংস্থার চেয়ারম্যান এই অনুষ্ঠানের ফরম্যাটটিকে ‘উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিচিত ব্যক্তিদের ক্যামেরার সামনে বিয়ে দিয়ে মধুচন্দ্রিমায় পাঠানোর এই ‘সামাজিক পরীক্ষা’ বাস্তবে নারীদের চরম অনিরাপদ করে তুলছে।

যদিও প্রযোজনা সংস্থা সিপিএল দাবি করেছে, তাঁরা কাস্টিংয়ের আগে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষিত ওয়েলফেয়ার দলের মাধ্যমে সব পরিচালনা করেন। কিন্তু অভিযোগকারী নারীরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটির গ্ল্যামার ও শুটিংয়ের চাপের মুখে তাঁরা বাস্তবতার অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছিলেন, যার সুযোগ নিয়েছে অপরাধীরা।

আইনি লড়াইয়ের পথে ভুক্তভোগীরা

বর্তমানে লিজি ও অন্যান্য ভুক্তভোগী নারীরা প্রযোজনা সংস্থা সিপিএল-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ভুক্তভোগীদের স্পষ্ট দাবি, ব্যক্তিগত খ্যাতি বা বিনোদনের নামে কাউকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে দেওয়া যায় না। তাঁরা এই শো-এর সম্প্রচার বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

চ্যানেল ৪ কর্তৃপক্ষ আগে অভিযোগগুলোকে 'ভিত্তিহীন' বলে দাবি করলেও, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা আর কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাচ্ছে না। এমএএফএস ইউকে-এর দশম সিজন চলছে, কিন্তু এই বিতর্কের পর শো-টির ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি 


পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ