Header Ads Widget

Responsive Advertisement

রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতিতে সরকার: শুল্ক-কর আদায়ে ১ লাখ কোটি টাকার বিশাল গর্ত

 

রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতিতে সরকার: শুল্ক-কর আদায়ে ১ লাখ কোটি টাকার বিশাল গর্ত

রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতিতে সরকার: শুল্ক-কর আদায়ে ১ লাখ কোটি টাকার বিশাল গর্ত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২৭ মে, ২০২৬

দেশের প্রধান রাজস্ব আহরণকারী সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি। প্রথমবারের মতো শুল্ক-কর আদায়ের ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জনের মধ্যে এই বিশাল ব্যবধান দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘাটতির পরিসংখ্যান ও ভয়াবহ চিত্র

এনবিআরের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক ঘাটতির চিত্র (জুলাই-এপ্রিল):

  • আয়কর: সবচেয়ে বেশি ৪৪ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি।

  • মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট): ৩৫ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা ঘাটতি।

  • আমদানি শুল্ক: ২৫ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ঘাটতি।

সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মে ও জুন—এই দুই মাসে পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা আদায় করতে হবে, যা এনবিআরের জন্য কার্যত অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ।

কেন এই বিপর্যয়?

অর্থনীতিবিদ ও এনবিআর সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব আদায়ে এই শ্লথগতির পেছনে বেশ কিছু কারণ বিদ্যমান:

  • ব্যবসায়িক স্থবিরতা: অর্থনীতি দীর্ঘ সময় ধরে চাপের মুখে থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমেছে।

  • নির্বাচন ও রাজনৈতিক উত্তরণ: নির্বাচনের বছর ও নতুন সরকার গঠনের সময় প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় এক ধরনের ধীরগতি তৈরি হয়েছিল।

  • কাঠামোগত সমস্যা: পুরোনো রাজস্ব প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে। রাজস্ব খাত সংস্কারের জন্য জারি করা অধ্যাদেশটি কার্যকর না হওয়া বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

 রাজস্ব ঘাটতি: উন্নয়ন প্রকল্পে কি কোপ পড়বে?

রাজস্ব ঘাটতি হলে সরকারের পরিচালন ব্যয় (যেমন বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ পরিশোধ) মেটানোর পর উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বড় ধরনের টান পড়ে। অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থের জোগানে টান পড়লে সরকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে খরচ কমাতে বাধ্য হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে ৬ থেকে ৭ শতাংশের মতো, যা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় খুবই কম।

 উত্তরণের পথ: কী করণীয়?

নতুন সরকার রাজস্ব খাত সংস্কারে ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংকট থেকে উত্তরণে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি: ১. করজাল সম্প্রসারণ: যারা কর দেওয়ার যোগ্য কিন্তু করের আওতার বাইরে, তাদের দ্রুত করের আওতায় আনা। ২. কর ফাঁকি রোধ: কঠোর নজরদারির মাধ্যমে কর ফাঁকি ও রাজস্ব প্রশাসনের দুর্নীতি বন্ধ করা। ৩. প্রশাসনিক দক্ষতা: এনবিআরের জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং আধুনিক কর ব্যবস্থাপনার প্রবর্তন করা। ৪. সংস্কার বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে রাজস্ব খাতের আমূল সংস্কার সাধন করা।

রেকর্ড এই ঘাটতি শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি অর্থনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত। নতুন সরকারকে এখন রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও কৌশলী ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে—নতুবা আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

দেশের অর্থনীতি ও নীতি-নির্ধারণী খবরের সর্বশেষ আপডেট পেতে চোখ রাখুন ‘পকেট নিউজ’-এ। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ