বালিশ-কাণ্ডের পর এবার ‘ড্রেসিং টেবিল-কাণ্ড’: ৩০ হাজারের টেবিল সাড়ে ৫ লাখ টাকা!
বিশেষ প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৯ মে, ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আবাসন ভবন ‘গ্রিন সিটি’র আসবাব কেনাকাটায় অবিশ্বাস্য দুর্নীতির তথ্য নতুন করে সামনে এসেছে। আলোচিত ‘বালিশ-কাণ্ডের’ রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ড্রেসিং টেবিল কেনায় বড় ধরনের লুটপাটের প্রমাণ পেয়েছে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়। একটি ড্রেসিং টেবিলের বাজারমূল্য যেখানে মাত্র ৩০ হাজার ৫০০ টাকা, সেখানে সরকারি নথিতে একটি টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা—যা বাজারদরের চেয়ে প্রায় ১৮ গুণ বেশি।
ড্রেসিং টেবিলেই ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা লুটপাট
সিএজির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিন সিটি প্রকল্পের জন্য মোট ১ হাজার ৩৪২টি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছিল। এই কেনাকাটায় সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে দেখা যায়:
২১টি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে প্রতিটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দরে।
১৫টি টেবিলের দাম ধরা হয়েছে প্রতিটি ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।
২৯৪টি টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা করে।
সকল প্রকার মুভি ড্রামা সিরিজ একসাথে
কোন সাবস্ক্রিপশন ফি ছাড়াই ফ্রি দেখুন
নিয়মনীতির তোয়াক্কা ছাড়াই হরিলুট
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এসব কেনাকাটা সম্পন্ন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রেসিং টেবিল ফ্লোরে ওঠানো-নামানোর খরচসহ প্রতিটি ইউনিটে বাজারদরের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য ধরা হয়েছিল। সিএজি এই অস্বাভাবিক দামের ব্যাখ্যা চাইলেও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। মূলত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতেই আইন ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
জড়িত যারা ও বর্তমান অবস্থা
দুর্নীতির এই খতিয়ানে সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুই প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করে ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক মো. শওকত আকবরের সময়ে এসব অনিয়ম হলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেবলমাত্র গত এপ্রিলে উপসহকারী প্রকৌশলী সুমন কুমার নন্দীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
২৯৫ কোটি টাকার বিশাল অনিয়ম
শুধু ড্রেসিং টেবিলই নয়, সিএজির প্রতিবেদন অনুযায়ী রূপপুর প্রকল্পের ২০টি ভবন তৈরিতে নানা অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা লুটপাটের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি বালিশ কিনতে সর্বোচ্চ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানোর সেই পুরোনো কলঙ্কিত অধ্যায়টিও পুনরায় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও বিশেষজ্ঞের উদ্বেগ
গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পেশ করা ৩৮টি অডিট রিপোর্টের মধ্যে এই দুর্নীতির প্রতিবেদনটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “যেহেতু অনিয়মগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে, তাই এর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা জরুরি।”

0 মন্তব্যসমূহ