সিলেটে পাকিস্তানি তোপ রুখে লিটনের ‘মহাকাব্যিক’ সেঞ্চুরি, প্রথম দিনে বাংলাদেশের ২৭৮
স্পোর্টস ডেস্ক, পকেট নিউজ | ১৬ মে, ২০২৬
৩৮.২ ওভারে মাত্র ১১৬ রান তুলতেই নাই ৬ উইকেট! সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টের প্রথম দিনেই যখন চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ, ঠিক তখনই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন লিটন কুমার দাস। পাকিস্তানি বোলারদের আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সামনে এক প্রান্তে ‘একলা চলো রে’ নীতিতে ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করে তুলে নিলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। তাঁর ১২৬ রানের অনন্য ইনিংসে ভর করেই প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ।
‘একলা চলো’ নীতি ও ওয়ানডে মেজাজে লিটন-কাব্য
উইকেটে যখন আসেন তখন দলের রান ৪ উইকেটে ১০৬। এরপর দ্রুতই আরও দুই উইকেট হারিয়ে দল যখন কাঁপছে, অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে তাইজুল ইসলাম যখন লিটনের সঙ্গী হন, তখন লিটনের ব্যক্তিগত রান ছিল মাত্র ২! কিন্তু এরপরই শুরু হয় লিটনের মাস্টারক্লাস।
টেইল-এন্ডারদের আগলে রাখতে ওভারের শুরুর বলগুলোতে সিঙ্গেল নেওয়া বন্ধ করে দেন লিটন। পঞ্চম বা ষষ্ঠ বলে সিঙ্গেল নিয়ে প্রান্ত বদল করতেন, যাতে পরের ওভারের শুরুতে স্ট্রাইকটা নিজের কাছে রাখা যায়। এই কৌশলে সফল হয়ে ওয়ানডে মেজাজে খেলে ১৫৯ বলে ১২৬ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। এটি টেস্টে লিটনের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি, যার মধ্যে ৩টিই এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতেও ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানো দলকে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলে টেনে তুলেছিলেন এই লিটনই।
অবশেষে হাসান আলীকে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে আবদুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠ ছাড়েন এই ড্যাশিং ব্যাটার।
যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন লেজের ব্যাটসম্যানরা
লিটনের এই সেঞ্চুরির পেছনে বড় অবদান ছিল লোয়ার-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের। লিটনকে স্ট্রাইক দিয়ে উইকেটে টিকে থাকার যে লড়াই তারা করেছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।
৭ম উইকেট জুটি (লিটন-তাইজুল): স্কোরবোর্ডে যোগ হয় গুরুত্বপূর্ণ ৬০ রান (তাইজুল ৪০ বলে ১৬ রান)।
৮ম উইকেট জুটি (লিটন-তাসকিন): স্কোরবোর্ডে আসে আরও ৩৮ রান।
৯ম উইকেট জুটি (লিটন-শরীফুল): এই জুটিতে আসে মূল্যবান ৬৪ রান, যা বাংলাদেশকে আড়াইশ পার করতে সাহায্য করে।
থিতু হয়েও টপ-অর্ডারের আক্ষেপ
আজ টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক ইতিবাচক খেললেও প্রথম সেশনেই দুজনকে ফিরতে হয়। তানজিদ ২৬ ও মুমিনুল করেন ২২ রান।
দ্বিতীয় সেশনে পাকিস্তানের দাপট ছিল সবচেয়ে বেশি। মাত্র ১৫ রান তুলতে বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে নাজমুল হোসেন শান্ত (২৯), মুশফিকুর রহিম (২৩) এবং মেহেদী হাসান মিরাজকে। টপ ও মিডল অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানই (তানজিদ, মুমিনুল, শান্ত, মুশফিক) উইকেটে থিতু হয়েও বড় ইনিংস না খেলতে পারার আক্ষেপে পুড়বেন নিশ্চিতভাবেই।
পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন খুররম শেহজাদ (৪ উইকেট) এবং মোহাম্মদ আব্বাস (৩ উইকেট)। তবে লিটনের সেঞ্চুরির আলোর কাছে তাদের এই বোলিং পারফরম্যান্স কিছুটা হলেও ঢাকা পড়ে গেছে।
শেষ বিকেলে সাবলীল পাকিস্তান
প্রথম দিনের শেষ বেলায় নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই করেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ২১ রান তুলে দিন শেষ করেছে তারা। ওপেনার আজান আওয়াইস ১৩* এবং আবদুল্লাহ ফজল ৮* রানে অপরাজিত আছেন।
প্রথম দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড:
বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২৭৮/১০ (৭৭ ওভার); লিটন ১২৬, নাজমুল ২৯, তানজিদ ২৬, মুশফিক ২৩, মুমিনুল ২২। (খুররম ৪/৮১, আব্বাস ৩/৪৫, হাসান ২/৪৯)
পাকিস্তান (১ম ইনিংস): ২১/০ (৬ ওভার); আজান আওয়াইস ১৩*, আবদুল্লাহ ফজল ৮*।
প্রথম দিন শেষে পাকিস্তান ২৫৭ রানে পিছিয়ে।

0 মন্তব্যসমূহ