Header Ads Widget

Responsive Advertisement
📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ ঘোষণা ইরানের, কারণ হিসেবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ------ || ------ 📢 বিশ্বকাপ ফুটবল-- জর্ডান বনাম আলজেরিয়া — সকাল ৯:০০টা, পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান — রাত ১১:০০টা, ইংল্যান্ড বনাম ঘানা — রাত ২:০০টা, পানামা বনাম ক্রোয়েশিয়া — আগামীকাল ভোর ৫:০০টা, কলম্বিয়া বনাম ডিআর কঙ্গো — আগামীকাল সকাল ৮:০০টা, সম্প্রচার: বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভি। ------ || ------ 📢 ঢাকায় অপরাধের লাগাম টানতে হিমশিম প্রশাসন, সক্রিয় ১১৭ অপরাধী চক্র; প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ

চাষের মাছে বিশ্বসেরা পাঁচে বাংলাদেশ, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে আহরণে ভারতের পরেই অবস্থান

চাষের মাছে বিশ্বসেরা পাঁচে বাংলাদেশ, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে আহরণে ভারতের পরেই অবস্থান


 চাষের মাছে বিশ্বসেরা পাঁচে বাংলাদেশ, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে আহরণে ভারতের পরেই অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২৩ জুন ২০২৬

মৎস্য উৎপাদনে বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জলজ প্রাণী চাষ বা অ্যাকুয়াকালচারে বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম উৎপাদক দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে নদী, হাওর, বিল ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়, যেখানে শুধু ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের ওপরে।

এফএও প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে জলজ প্রাণী উৎপাদনের কেন্দ্র ধীরে ধীরে এশিয়ামুখী হচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অংশীদার বাংলাদেশ।

মাছ চাষে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে চাষের মাধ্যমে জলজ প্রাণী উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৯ লাখ ৭৮ হাজার টন। এ খাতে বাংলাদেশের আগে রয়েছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও ভিয়েতনাম। বিশ্বে শীর্ষ উৎপাদক চীনের উৎপাদন ৫ কোটি ৭৫ লাখ টন, আর ভারতের উৎপাদন ১ কোটি ২০ লাখ টন।

বিশ্বব্যাপী জলজ প্রাণী উৎপাদনের ৮২ শতাংশই এসেছে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ থেকে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ কয়েক দশকের পরিকল্পিত উদ্যোগ, সরকারি সহায়তা, গবেষণা কার্যক্রম, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং খামারিদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের মাছ চাষ খাতে এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।

অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে আহরণে বিশ্বে দ্বিতীয়

চাষের পাশাপাশি মুক্ত জলাশয় থেকেও মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। ২০২৪ সালে দেশের নদী, হাওর, বিল ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণের পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ১২ হাজার টন, যা বৈশ্বিক আহরণের ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।

এই খাতে ভারতের আহরণ ২১ লাখ ৭৬ হাজার টন নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা চীনের আহরণ ১১ লাখ ৬৩ হাজার টন।

এফএও বলছে, তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ জলাশয় ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশের আহরণ পরিসংখ্যান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় অবদান

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) মৎস্য খাতের অবদান ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮১ শতাংশ।

বর্তমানে দেশের দুই কোটির বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ নারী রয়েছেন। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে মাছ উৎপাদন ৫০ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছায় এবং মাথাপিছু দৈনিক মাছ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৭ গ্রামে।

ইলিশ ও তেলাপিয়ায়ও সাফল্য

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তেলাপিয়া উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ এবং এশিয়ায় তৃতীয়।

এ ছাড়া চিংড়ি উৎপাদনেও বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে চিংড়ি উৎপাদনে দেশের অবস্থান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।

আরও পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ৬ এলাকায় সেনাবাহিনীকে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা

বিস্তারিত পড়ুন এখানে

চ্যালেঞ্জও কম নয়

যদিও উৎপাদনে সাফল্য এসেছে, তবুও খাতটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ফিশ ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ফোয়াব) সভাপতি মোল্লা শামসুর রহমান শাহীন বলেন, মাছ চাষে দেশে কার্যত একটি ‘বিপ্লব’ ঘটেছে। তবে খামারিদের জন্য বিমা সুবিধার অভাব, উন্নত পোনা ও মানসম্মত খাদ্যের সংকট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এখনও বড় সমস্যা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, আশির দশক থেকে ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই আজকের এই অবস্থান। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মৎস্য অধিদপ্তরের বিস্তৃত কাঠামোও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণের পরিসংখ্যান নিয়ে কিছু গবেষক প্রশ্ন তুললেও মৎস্য অধিদপ্তর দাবি করছে, তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতির উন্নয়নের কারণেই উৎপাদন ও আহরণের প্রকৃত চিত্র এখন আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসছে।

চাষের মাছই ভবিষ্যতের ভরসা

এফএওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৪ সালের মধ্যে বিশ্বে জলজ প্রাণী উৎপাদন ২১ কোটি ৪০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে অ্যাকুয়াকালচার বা মাছ চাষ।

বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী দিনে মাছ চাষ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের জন্য এটি যেমন গর্বের অর্জন, তেমনি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনারও ইঙ্গিত। সঠিক নীতি সহায়তা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে বৈশ্বিক মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ