মাত্র ১২ দিনেই ট্রিলিয়নিয়ার থেকে বিলিয়নিয়ার, সম্পদে বড় ধাক্কা ইলন মাস্কের
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২৫ জুন ২০২৬
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে ইতিহাস গড়ার মাত্র ১২ দিনের মাথায় সেই মর্যাদা হারালেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দরপতনের ফলে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বুধবার মার্কিন শেয়ারবাজার বন্ধ হওয়ার সময় মাস্কের নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে অর্জিত রেকর্ড আপাতত হারালেও তিনি এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছেন।
স্পেসএক্সের আইপিও বদলে দিয়েছিল ইতিহাস
গত ১২ জুন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাজারে আসার পর মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে। বিশ্বের বৃহত্তম আইপিওগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে স্পেসএক্স প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করে।
আইপিওর পরপরই কোম্পানির শেয়ারের মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় মাস্ক বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক লাখ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। তবে তাঁর সম্পদের বড় অংশ যেহেতু শেয়ারনির্ভর, তাই বাজারের ওঠানামা সরাসরি তাঁর সম্পদের ওপর প্রভাব ফেলে।
কেন কমল সম্পদ
বিশ্ববাজারে চলতি সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অতিরিক্ত মূল্যায়ন বা ‘বাবল’ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর ফলে প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। স্পেসএক্স ও টেসলার পাশাপাশি অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানিও এ ধাক্কার শিকার হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে এআই খাতকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ অনেক প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সেই মূল্যায়নের পুনর্মূল্যায়ন শুরু হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
তবুও সবার ওপরে মাস্ক
ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা হারালেও সম্পদের দিক থেকে এখনো অনেক এগিয়ে রয়েছেন ইলন মাস্ক। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮৪ বিলিয়ন ডলার, যা মাস্কের বর্তমান সম্পদের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাস্কের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৩৩৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে তাঁর সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণই বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তির মোট সম্পদের চেয়েও বেশি।
আরও পড়ুন
মুদিদোকান থেকে রেস্তোরাঁ, আরও নানা খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের
বিস্তারিত পড়ুন এখানেট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা কি আবার ফিরবে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাস্কের সম্পদের বড় অংশই টেসলা, স্পেসএক্স এবং অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের সঙ্গে যুক্ত। ফলে বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে গেলে খুব দ্রুতই তাঁর সম্পদ আবার এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে।
বর্তমান পতনকে অনেক বিশ্লেষক সাময়িক বাজার সংশোধন হিসেবেই দেখছেন। তাই শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারা ফিরলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার খেতাব পুনরুদ্ধার করাও মাস্কের জন্য অসম্ভব নয়।
বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন বাস্তবতা
ইলন মাস্কের সম্পদের দ্রুত উত্থান-পতন আধুনিক অর্থনীতিতে প্রযুক্তি কোম্পানির প্রভাব এবং শেয়ারবাজারনির্ভর সম্পদ ব্যবস্থার বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে শত শত বিলিয়ন ডলারের সম্পদ কমে যাওয়ার ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তিদের সম্পদও কতটা বাজারনির্ভর ও পরিবর্তনশীল।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ