বিদ্যুতের দাম বাড়ল ১৬.৬৮ শতাংশ: বাড়বে জীবনযাত্রার ব্যয়, চাপে পড়বে অর্থনীতি
নিজস্ব প্রতিবেদক | পকেট নিউজ
দেশজুড়ে আবারও বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম। গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই দাম চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।
বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন স্লাবের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
কত বাড়ল বিদ্যুতের দাম?
বিইআরসির নতুন আদেশ অনুযায়ী—
পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে।
খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়েছে।
সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিটে ৩১ পয়সা থেকে বেড়ে প্রায় ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প—সব ধরনের গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বাড়বে।
কেন বাড়ানো হলো দাম?
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) দাবি করেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা এবং প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১২ টাকা ৯১ পয়সা।
বর্তমানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি করায় বিপিডিবিকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সেই চাপ কমাতেই এই মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরাসরি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াবে। কারণ বিদ্যুৎ শুধু গৃহস্থালির প্রয়োজনেই নয়, শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও সেবাখাতের অন্যতম প্রধান উৎপাদন উপাদান।
এর ফলে—
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন খরচ বাড়বে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা বেশি চাপে পড়বে।
বাজারে পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।
মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে।
সাধারণ মানুষের মাসিক ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।
তবে বিস্ময়করভাবে বিইআরসি স্বীকার করেছে, এই মূল্যবৃদ্ধির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা হয়নি।
দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর হওয়ায় নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় নতুন মূল্যহার ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, কোনো চাপ ছিল না; বাজেট বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, জনগণের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলছে।
সামনে কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাময়িকভাবে সরকারি ভর্তুকির চাপ কমাতে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সংস্কার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে আসন্ন মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি ও জনভোগান্তি কতটা বাড়ে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর


0 মন্তব্যসমূহ