📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল, নেতানিয়াহুর ওপরও বাড়ছে চাপ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল, নেতানিয়াহুর ওপরও বাড়ছে চাপ

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল, নেতানিয়াহুর ওপরও বাড়ছে চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | পকেট নিউজ | ১৬ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মোড় তৈরি করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া এই সমঝোতাকে ওয়াশিংটন ও তেহরান ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরলেও ইসরায়েলে এর প্রতিক্রিয়া হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশটির সরকার, ডানপন্থী রাজনৈতিক শিবির, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং বিরোধী নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও হতাশা।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেনি; বরং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানকেও নতুন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

কেন ক্ষুব্ধ ইসরায়েল?

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো লেবাননসহ বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতা বন্ধ করা। কিন্তু ইসরায়েল শুরু থেকেই এ শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয় এবং লেবাননকে কেন্দ্র করে ইরানের কোনো শর্তও তারা গ্রহণ করবে না। চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকা সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, সেনাবাহিনী অনির্দিষ্টকালের জন্য লেবানন, সিরিয়া ও গাজার নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তা নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত নয়।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ডানপন্থীদের ক্ষোভ

চুক্তি ঘোষণার পর সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক শিবির থেকে।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ চুক্তিটিকে ‘ইসরায়েল ও মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই এখন ইসরায়েলকেই একাই চালিয়ে যেতে হবে।

জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির আরও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ইসরায়েল কোনো অধীন রাষ্ট্র নয় এবং ওয়াশিংটনের কোনো সিদ্ধান্ত দেশটির ওপর বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে পারে না।

এমনকি নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলকে একা ফেলে দিয়েছে।

নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন

চুক্তি নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনাই নয়, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মধ্য-বামপন্থী নেতা ইয়ার গোলান দাবি করেছেন, এই চুক্তি নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ইরাননীতি ব্যর্থ হওয়ার প্রমাণ। তাঁর মতে, ইসরায়েল এখন আগের চেয়ে বেশি দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী গাদি আইজেনকোটও বলেছেন, চুক্তিটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের কোনো কার্যকর সমাধান দেয়নি। তিনি গত কয়েক বছরের যুদ্ধনীতি ও সরকারের সিদ্ধান্তকে ব্যর্থতার প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন।

অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না এবং দেশকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইরান প্রশ্নে বিভক্ত ইসরায়েল

চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সরকারপন্থী ও কট্টর ডানপন্থীরা মনে করছে, চুক্তির ফলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পাবে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হবে না।

অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের একটি অংশ মনে করছে, সমস্যার মূল কারণ চুক্তি নয়; বরং নেতানিয়াহুর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ব্যর্থতা। তাদের মতে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা

বিশ্লেষকদের মতে, এই শান্তিচুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা আঞ্চলিক কূটনীতির নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—ইসরায়েল যদি চুক্তির শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায় এবং লেবানন বা ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান চালিয়ে যায়, তাহলে এই সমঝোতা কতটা কার্যকর হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানপন্থী শক্তিগুলোর সংঘাত এখনো শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং চুক্তি-পরবর্তী ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিভাজন মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ