বিসিবি নির্বাচন ঘিরে বিতর্কের ঝড়, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৫ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন ৭ জুনের নির্বাচনকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক। ক্রিকেট প্রশাসনে পরিবর্তনের প্রত্যাশা থাকলেও নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ক্রীড়া অঙ্গন ও সংশ্লিষ্ট মহলে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিসিবির নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্কের সংস্কৃতি থেকে এখনো বের হতে পারেনি দেশের ক্রিকেট প্রশাসন। ফলে বহুল আলোচিত এই নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে।
আহ্বায়ক কমিটিকেই ঘিরে বিতর্ক
বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে রয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এই কমিটির প্রধান দায়িত্ব ছিল একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করা। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, কমিটির ১১ সদস্যের মধ্যে ৭ জনই সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে।
যদিও আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন পরিচালনা করবে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবং কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, অতীতেও একই ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, অথচ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক থামেনি।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের অভিযোগ
নির্বাচন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিসিবির বেশ কয়েকটি পরিচালক পদে কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই।
জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ক্যাটাগরি-১ থেকে ১০ পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও এর মধ্যে ৭ জন ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী ক্যাটাগরি-৩-এর একমাত্র পরিচালকও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
ফলে নির্বাচনকে ঘিরে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনদের অংশগ্রহণ নিয়ে।
প্রার্থী তালিকায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের স্বজনদের উপস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ক্রিকেট প্রশাসনে ক্রীড়া সংগঠকদের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নতুন নয়। অতীতেও রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিরা বিসিবির পরিচালক হয়েছেন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিচয়ই যেন অনেক ক্ষেত্রে প্রধান পরিচয় হয়ে উঠেছে।
কাউন্সিলর নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন
বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা জানতেন না কাদের নাম ভোটার হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া ই-ভোটিং পদ্ধতি নিয়েও সন্দেহ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ তুলে সমালোচকরা বলছেন, এতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পরিবর্তনের প্রত্যাশা কি পূরণ হচ্ছে?
গত কয়েক বছরে বিসিবির নির্বাচন নিয়ে প্রায় প্রতিবারই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
তাঁদের মতে, ক্রীড়া প্রশাসনে প্রকৃত সংস্কার আনতে হলে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; নির্বাচন প্রক্রিয়া, কাউন্সিলর মনোনয়ন এবং পরিচালনা কাঠামোতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কী বার্তা?
বিসিবি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সংস্থাগুলোর একটি। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান অনেকাংশে নির্ভর করে বোর্ডের নীতিনির্ধারণের ওপর।
সেই কারণে নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক যত বাড়বে, ততই ক্রিকেট প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। ৭ জুনের নির্বাচন তাই শুধু নতুন পরিচালক নির্বাচনের বিষয় নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন।
পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর।
www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ