Header Ads Widget

Responsive Advertisement

৬৯০ এসি বাসের অনুমোদন, কিন্তু রাস্তায় নামেনি একটিও: এবার ঢাকায় ইলেকট্রিক বাসের পরিকল্পনা

 

৬৯০ এসি বাসের অনুমোদন, কিন্তু রাস্তায় নামেনি একটিও: এবার ঢাকায় ইলেকট্রিক বাসের পরিকল্পনা

৬৯০ এসি বাসের অনুমোদন, কিন্তু রাস্তায় নামেনি একটিও: এবার ঢাকায় ইলেকট্রিক বাসের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | পকেট নিউজ

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৬৯০টি নতুন শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস নামানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুমোদনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর রাস্তায় নামেনি একটি বাসও। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকার এখন ইলেকট্রিক বাস চালুর দিকে জোর দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু নতুন বাস নামানো নয়, পুরো বাস ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করাই সরকারের লক্ষ্য। তাই ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস, ই-টিকেটিং ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় দরজা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এসি বাসের চাহিদা, কিন্তু সেবা নেই

রাজধানীর কোটি মানুষের অন্যতম অভিযোগ গণপরিবহনের মান নিয়ে। অধিকাংশ বাসের অবস্থা জরাজীর্ণ, দরজা-জানালা ভাঙা, রং চটা এবং যাত্রীসেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের।

অফিসগামী যাত্রীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, পর্যাপ্ত এসি বাস চালু হলে ব্যক্তিগত গাড়ি বা রাইড-শেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ঢাকার অধিকাংশ রুটে এখনো কোনো এসি বাস নেই।

কেন নামেনি ৬৯০টি বাস?

২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি (মেট্রো আরটিসি) ১০টি রুটে ৬৯০টি নতুন এসি বাস নামানোর অনুমোদন দেয়। ছয় মাসের মধ্যে বাস নামানোর শর্তও ছিল।

কিন্তু বাস মালিকরা এখনো বাস আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। অধিকাংশ কোম্পানি ভারত ও চীনের নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনা করলেও উচ্চ ব্যয়ের কারণে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি।

কিছু কোম্পানি পুরোনো দূরপাল্লার এসি বাস ঢাকায় নামানোর চেষ্টা করলেও সরকার পুরোনো বাসের অনুমতি দিতে আগ্রহী নয়।

ইলেকট্রিক বাসে নতুন দৃষ্টি

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানিয়েছেন, সরকার এখন জ্বালানি সাশ্রয় এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতকে ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য শুল্ক ছাড়সহ বিভিন্ন নীতিগত সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিও ইতোমধ্যে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস দিয়ে একটি নতুন রুট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

ঢাকার বাস ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী—

  • ঢাকায় নিবন্ধিত বাস ও মিনিবাস প্রায় ৫৪ হাজার।

  • এর মধ্যে ১৬ হাজার ১৯৮টি বাস-মিনিবাস মেয়াদোত্তীর্ণ।

  • অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশ যানবাহনের বয়স ২০ বছরের বেশি।

  • বাস্তবে রাস্তায় চলে মাত্র ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার বাস।

  • প্রায় ১ হাজার ৬৪৬টি বাসের বৈধ রুট পারমিট নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাসের সংখ্যা নয়, মূল সমস্যা ব্যবস্থাপনায়।

ব্যর্থ হয়েছে আগের সংস্কার উদ্যোগ

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে কয়েক বছর আগে "ঢাকা নগর পরিবহন" প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক সেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।

তবে পর্যাপ্ত সমন্বয় ও বাস্তবায়নের অভাবে সেই উদ্যোগ বেশি দিন টেকেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামানের মতে, বর্তমান রুট পারমিট ব্যবস্থা বৈজ্ঞানিক নয়।

তাঁর মতে, পৃথক মালিকের পরিবর্তে বড় কোম্পানির অধীনে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক আধুনিক বাস পরিচালনা করতে হবে। একই রঙ, নির্ধারিত মান এবং কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ছাড়া গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

সামনে কী?

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নতুন বাস নামালেই ঢাকার পরিবহন সংকট দূর হবে না। প্রয়োজন—

  • মেয়াদোত্তীর্ণ বাস দ্রুত অপসারণ,

  • রুট ব্যবস্থার সংস্কার,

  • ই-টিকেটিং চালু,

  • নির্ধারিত স্টপেজ নিশ্চিত করা,

  • এবং পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যাত্রীরা দীর্ঘদিন পর আধুনিক, নিরাপদ ও আরামদায়ক গণপরিবহন সেবা পেতে পারেন। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, পরিকল্পনার চেয়ে বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ