জাতিসংঘে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের, ‘টেকসই সমাধান মিয়ানমারেই’
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২০ জুন ২০২৬
রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আবারও জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেছেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান।
শুক্রবার মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রায় এক দশক ধরে ১২ লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতি দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী সংকটের ভার বহন করলেও বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
‘সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানেই’
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী স্পষ্টভাবে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। তাই এর স্থায়ী সমাধানও মিয়ানমারকেই নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী। কিন্তু নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা ছাড়া প্রত্যাবাসন কার্যকর হবে না।
বাংলাদেশের অবস্থান অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, আঞ্চলিক শক্তি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রাষ্ট্রদূতের মতে, শুধুমাত্র মানবিক সহায়তা দিয়ে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়; বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করে রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা, বাড়ছে উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা গুরুত্ব হারিয়েছে। ফলে মানবিক সহায়তার তহবিলেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি আশ্রয় ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তাই বাংলাদেশ কেবল মানবিক সহায়তা নয়, সংকটের মূল কারণ সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ ও কার্যকর উদ্যোগ চায়।
রাখাইনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফল হবে না।
তিনি বিশ্ব ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তবে টেকসই সমাধানের জন্য এখন প্রয়োজন মিয়ানমারের বাস্তব পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থান।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ