৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগে অনিয়মের পর্যবেক্ষণ, ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ ও নিয়োগ সম্পন্নের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২৫ জুন ২০২৬
৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়নি এবং এতে স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল বলে পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
কী নিয়ে মামলা
২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি ৪৩তম বিসিএসের ৬৪২ জন নন-ক্যাডার প্রার্থীর নিয়োগ সুপারিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। ওই বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মারুফ হোসেনসহ ৪৬৫ জন প্রার্থী রিটটি দায়ের করেন।
পরবর্তীতে একই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেন। পরে আবেদনকারীরা ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদগুলো সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করলে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর আদালত ৮ হাজার ৫০১টি নন-ক্যাডার পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
রিটকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির সাংবাদিকদের জানান, আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়নি এবং এতে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ছিল না।
তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করেই ৬৪২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল, যা নিয়োগবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়টিকেই আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।
৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগ শেষের নির্দেশ
রায়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) মেধার ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করে ৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় বিসিএস নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
১২ হাজারের বেশি পদে নিয়োগের সুযোগ
আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির জানান, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য মোট ১২ হাজার ৫৫১টি পদ রয়েছে।
ফলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশ ও নিয়োগ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা হাজারো প্রার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি
রায়ের পর সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তারা আদালতের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই রায় ভবিষ্যতে সরকারি নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ