গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান মির্জা ফখরুলের
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ১৬ জুন ২০২৬
গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সময়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সরকার সেই স্বাধীনতা সংরক্ষণে কাজ করছে। তবে স্বাধীনতার এই পরিবেশ ধরে রাখতে সাংবাদিক সমাজসহ গণতন্ত্রপন্থী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
‘আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলতে পারে না’
আলোচনা সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্রের সহাবস্থান সম্ভব নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেছেন যে আওয়ামী লীগ অতীতেও গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির শাসনামলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্টের অপচেষ্টার অভিযোগ
দেশে বিভিন্ন গোষ্ঠী নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিএনপিকে ‘উদার গণতান্ত্রিক দল’ হিসেবে তুলে ধরলেন
বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়; এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।
তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ, জাতিগত পরিচয় বা অন্য কোনো ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে না। দলটি সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নেয়।
সাংবাদিক নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
তবে বর্তমান সময়ে সংবাদপত্রের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর অন্যায্য আচরণ ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলেন তিনি। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজকে পদত্যাগে চাপ দেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান।
সাংবাদিক নেতাদের অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক আবদুল হাই সিদ্দিকসহ গণমাধ্যম অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায়
বিশ্লেষকদের মতে, ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভা শুধু অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্নগুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ