📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

বিএফআইইউর প্রতিবেদন: এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ


বিএফআইইউর প্রতিবেদন: এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

বিএফআইইউর প্রতিবেদন: এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ, ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির চিত্র উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক | পকেট নিউজ 

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারির চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে ‘এস গ্রুপ’ ছদ্মনামে প্রকাশিত একটি কেস স্টাডিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের সাতটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচার করেছে একটি শিল্পগোষ্ঠী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, প্রতিবেদনে উল্লেখিত ‘এস গ্রুপ’ মূলত এস আলম গ্রুপ

বিএফআইইউর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কেবল একটি করপোরেট জালিয়াতির ঘটনা নয়; বরং রাজনৈতিক ক্ষমতা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং আর্থিক তদারকির ব্যর্থতার সমন্বয়ে সংঘটিত একটি পদ্ধতিগত (Systemic) আর্থিক অপরাধ, যার প্রভাব এখনো দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাত বহন করছে।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে এস আলম গ্রুপ ধাপে ধাপে দেশের সাতটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। এ কাজে ব্যবহার করা হয় উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব।

নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর গ্রুপটির পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বসানো হয়। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ঋণ অনুমোদন, বিনিয়োগ, পরিচালনা এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠা করে প্রতিষ্ঠানটি।

বিএফআইইউর মতে, দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব খাটানো হয়েছিল। এরপর ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা নিজেদের সুবিধামতো পরিবর্তন করে ধারাবাহিকভাবে বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করা হয়।

ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শুরু হয় ঋণের নামে অর্থ আত্মসাতের সবচেয়ে বড় প্রক্রিয়া। বৈধ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শত শত শেল কোম্পানি বা কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরি করে তাদের নামে ঋণ নেওয়া হয়।

বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী—

  • মোট ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে;

  • এর মধ্যে ৯০ হাজার কোটি টাকা ৪৩টি সরাসরি প্রতিষ্ঠানের নামে;

  • ৯৮ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বেনামি বা শেল কোম্পানির মাধ্যমে;

  • বাকি ৩৭ হাজার কোটি টাকা অন্যান্য পদ্ধতিতে উত্তোলন করা হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এত বিপুল ঋণের বিপরীতে ব্যাংকে রাখা জামানতের প্রকৃত বাজারমূল্য ছিল মাত্র ৩২ হাজার কোটি টাকা

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ ব্যাংকিং নীতিমালায় এমন ঋণ অনুমোদনের সুযোগ নেই। ফলে এটি কেবল বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়; বরং পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

ব্যাংক লুট থেকে বিদেশে অর্থ পাচার

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থ সরাসরি বিদেশে স্থানান্তরের জন্য জটিল মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কৌশলগুলোর মধ্যে ছিল—

  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ স্থানান্তর;

  • ট্রাস্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার;

  • হুন্ডি চক্রের মাধ্যমে অর্থ পাচার;

  • অফশোর আর্থিক ব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাচার হওয়া অর্থের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রুপটির মূল ব্যক্তিরা তিনটি ভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, একাধিক নাগরিকত্ব এবং বিদেশে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ইতিহাসের অন্যতম বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারি

বার্ষিক প্রতিবেদনে বিএফআইইউ মন্তব্য করেছে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারির সাক্ষী হয়েছে।

সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই কেলেঙ্কারির পেছনে ছিল—

  • জালিয়াতিপূর্ণ ঋণ অনুমোদন;

  • নিয়ন্ত্রক আইন লঙ্ঘন;

  • রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার;

  • ব্যাংকিং কাঠামোর পদ্ধতিগত দুর্বলতা;

  • তদারকির ব্যর্থতা।

এসব অনিয়ম দীর্ঘ সময় ধরে চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

আর্থিক ব্যবস্থার জন্য বড় সতর্কবার্তা

অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে একাধিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া এবং সেই সুযোগে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

অতিরিক্ত খেলাপি ঋণ, আমানতকারীদের আস্থার সংকট এবং ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি—এসব সমস্যার পেছনে এমন বড় ধরনের অনিয়ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে পরিচালনা পর্ষদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

অর্থ ফেরত আনা হবে বড় চ্যালেঞ্জ

বিএফআইইউ মনে করছে, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত ও দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

কারণ, পাচার হওয়া অর্থ বিভিন্ন দেশের কোম্পানি, ট্রাস্ট অ্যাকাউন্ট এবং অফশোর আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সম্পদ শনাক্ত, জব্দ এবং পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে।

এস আলম গ্রুপের বক্তব্য মেলেনি

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে গত শনিবার এস আলম গ্রুপের কাছে ই-মেইল পাঠানো হয়। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের নতুন চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, বিএফআইইউর এই প্রতিবেদন শুধু অতীতের একটি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির বিবরণ নয়; বরং দেশের ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহি, করপোরেট সুশাসন, ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধে আরও কঠোর নীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আর্থিক সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে এই অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ