📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

গ্যাস সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে সংকট তীব্র, বিপাকে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প ও সিএনজি খাত

 

এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার ধাক্কা: গ্যাস সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে সংকট তীব্র, বিপাকে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প ও সিএনজি খাত

এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার ধাক্কা: গ্যাস সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে সংকট তীব্র, বিপাকে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প ও সিএনজি খাত

রান্নার চুলা জ্বলছে না, দীর্ঘ হচ্ছে সিএনজি স্টেশনের লাইন, কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন; বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কাঠামোগত সংকট আরও স্পষ্ট

বিশেষ প্রতিবেদন | পকেট নিউজ
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬

দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের চাহিদা-সরবরাহের ঘাটতি এবার নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসিক, শিল্প ও পরিবহন খাতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যেখানে সংকট নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনার পর জাতীয় সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ২২০ কোটি ঘনফুটে। এর আগে গড়ে সরবরাহ ছিল প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট

ফলে অনেক এলাকায় গ্যাসের চুলা জ্বলছে না, সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে গেছে।

সংকটের মূল কারণ কী?

বাংলাদেশে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। উৎপাদনের ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়।

বর্তমানে জাতীয় গ্যাস সরবরাহের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে

কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি পরিচালনা করে সামিট

গত মঙ্গলবার এক্সিলারেট পরিচালিত টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

দুর্ঘটনার আগে এলএনজি থেকে দৈনিক প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হতো। বর্তমানে তা কমে ৫৬ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে।

সরকারের পদক্ষেপ

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের মতে, সংকটের কারণ এলএনজির ঘাটতি নয়; বরং টার্মিনালের কারিগরি ক্ষতি।

অগ্নিকাণ্ডে টার্মিনালের দুটি বয়লারের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরটি সচল করা গেলে প্রতিদিন আরও ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

এ লক্ষ্যে বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে মহেশখালীতে কাজ শুরু করেছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করছে। সরকার আশা করছে, দ্রুত টার্মিনাল আংশিক চালু করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আবাসিক গ্রাহক

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সংকট সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির আওতায় ২৭ লাখের বেশি আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন।

তিতাসের দৈনিক চাহিদা ২২০ কোটি ঘনফুট, যেখানে সংকট সামাল দিতে অন্তত ১৭০ কোটি ঘনফুট প্রয়োজন।

স্বাভাবিক সময়ে তারা ১৫০-১৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলেও বর্তমানে সরবরাহ নেমে এসেছে ১২০ কোটি ঘনফুটে

ফলে রাজধানীর বহু এলাকায় দিনের পর দিন গ্যাসের চুলা বন্ধ থাকছে।

মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, রায়েরবাজার, তাজমহল রোড ও জাকির হোসেন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরেই গ্যাস না থাকায় রান্না করতে হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার, বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা কাঠের চুলায়।

সিএনজি স্টেশনেও দীর্ঘ অপেক্ষা

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর জানিয়েছেন, অধিকাংশ স্টেশনে গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিছু স্টেশন আবার সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ

গ্যাসের ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে ১১০-১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে তারা ৯০-১০০ কোটি ঘনফুট পেলেও বর্তমানে তা কমে ৭৫ কোটি ঘনফুটে নেমেছে।

ফলে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি থেকে কমে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।

বর্তমানে টানা বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে গরম বাড়লে লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে শিল্প খাতে।

বস্ত্র, সিরামিক, স্টিল, কেমিক্যালসহ গ্যাসনির্ভর বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত গ্যাসচাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, শিল্পকারখানার জেনারেটর সচল রাখতে যেখানে ১০ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ১ পিএসআইয়েরও কম

ফলে অনেক কারখানা আংশিক উৎপাদন চালাচ্ছে, কেউ আবার বিকল্প জ্বালানির সাহায্যে বাড়তি ব্যয়ে উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকেও নিরুৎসাহিত করছে।

আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সংকট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের নীতিগত সমস্যার ফল।

২০১৭ সালে দেশে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ছিল প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে তা কমে ১৬৫ কোটি ঘনফুটেরও নিচে নেমে এসেছে।

নতুন বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে ধীরগতি এবং অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে দেশীয় উৎপাদন বাড়েনি।

ফলে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, বৈদেশিক মুদ্রা সংকট কিংবা টার্মিনালের মতো অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে সহজেই বিঘ্নিত হতে পারে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সংকট মোকাবিলায় সরকার কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে—

  • নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন

  • মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি

  • ভোলার অব্যবহৃত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা

  • নতুন গ্যাসকূপ খনন

  • পুরোনো কূপ সংস্কার

  • সমুদ্রে নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান

  • জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ

তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগবে। ফলে স্বল্পমেয়াদে সংকট পুরোপুরি কাটার সম্ভাবনা সীমিত।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম মনে করেন, শুরু থেকেই এলএনজিকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখাটা ভুল ছিল।

তার ভাষায়, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজার, আবহাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়। ফলে যেকোনো দুর্ঘটনা বা বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।

সারসংক্ষেপ

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের অগ্নিকাণ্ড দেশের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে সিএনজি পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ খাত—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব স্পষ্ট। সরকার দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালালেও এই সংকট আবারও দেখিয়ে দিল, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ও জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ