📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

স্পেনের ‘অ্যানাকোন্ডা গ্রিপে’ থেমে গেল ফ্রান্স

 

স্পেনের ‘অ্যানাকোন্ডা গ্রিপে’ থেমে গেল ফ্রান্স, কৌশলের লড়াই জিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে লা ফুয়েন্তের দল

স্পেনের ‘অ্যানাকোন্ডা গ্রিপে’ থেমে গেল ফ্রান্স, কৌশলের লড়াই জিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে লা ফুয়েন্তের দল

স্পোর্টস ডেস্ক, পকেট নিউজ| ১৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলকে ২–০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন। তবে এই জয় কেবল স্কোরলাইনের নয়, এটি ছিল কৌশল, শৃঙ্খলা এবং দলীয় সমন্বয়ের এক অনন্য প্রদর্শনী। স্প্যানিশদের রক্ষণ ও মাঝমাঠের সংগঠিত চাপকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স আখ্যা দিয়েছে ‘অ্যানাকোন্ডা গ্রিপ’—যে কৌশলে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে শ্বাসরুদ্ধ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেয় স্পেন।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল স্পেন

ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের শুরু থেকেই বলের দখল, পাসের গতি এবং মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে স্পেন। রদ্রি, দানি ওলমো, পাউ কুবারসি ও মার্ক কুকুরেয়ার সমন্বিত প্রেসিংয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়ে ফ্রান্সের মাঝমাঠ।

ফরাসি মিডফিল্ডার অরেলিয়ান চুয়ামেনি ও আদ্রিয়ান রাবিও বারবার সংখ্যাগত অসুবিধার মুখে পড়েন। ফলে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে কিংবা মাইকেল ওলিসের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছে কার্যকরভাবে বল পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

স্পেনের কৌশল ছিল সহজ—মাঝমাঠের ফাঁকা জায়গা সংকুচিত করা, পাসের পথ বন্ধ করা এবং বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই উচ্চচাপে প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করা। এই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।

এমবাপ্পে স্বীকার করলেন পরিকল্পনার ব্যর্থতা

ম্যাচ শেষে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে পরাজয়ের কারণ হিসেবে নিজেদের কৌশলগত ব্যর্থতার কথাই তুলে ধরেন।

তার ভাষায়, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দল যেভাবে খেলতে চেয়েছিল, সেভাবে খেলতে পারেনি। স্পেনকে ওপরে থেকেই চাপে রাখার পরিকল্পনা ছিল, যাতে তারা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এমবাপ্পে আরও বলেন, মাঝমাঠে ফ্রান্স বারবার দুই বনাম তিন পরিস্থিতিতে পড়েছে, যা স্পেনের মতো প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ দলের বিপক্ষে বড় ধরনের দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন

স্প্যানিশ ফুটবল বিশ্লেষক গিলেম বালাগের মতে, এই সাফল্য হঠাৎ আসেনি। বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে প্রায় এক দশক ধরে একই দর্শনে খেলোয়াড় তৈরি করেছেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ে রদ্রি, উনাই সিমন, ওলমোদের নিয়ে ইউরোপীয় শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি হয়েছে বর্তমান সিনিয়র দলের বোঝাপড়া।

বালাগের ভাষায়, স্পেনের এই দলীয় পারফরম্যান্স ফুটবল একাডেমিগুলোর জন্য শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে। বল দখল, অবস্থান নির্বাচন, পাসিং ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুতেই স্পেন ছিল এক ধাপ এগিয়ে।

রদ্রিকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে ‘অ্যানাকোন্ডা গ্রিপ’

স্পেনের রক্ষণ ও মাঝমাঠের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন রদ্রি। তার সঙ্গে পাউ কুবারসি, দানি ওলমো ও ফাবিয়ান রুইজ মিলে এমন এক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, যেখানে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

মাঝমাঠে সংখ্যাগত আধিপত্য তৈরি করে স্পেন প্রতিটি আক্রমণের সূচনা পর্যায়েই ফ্রান্সকে থামিয়ে দেয়। ফলে এমবাপ্পে পুরো ম্যাচেই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা পাননি।

দর্শনের জয় দেখছেন লা ফুয়েন্তে

স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচ শেষে বলেন, প্রায় চার বছর আগে যে ফুটবল দর্শন নিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেই পরিকল্পনায় অবিচল থাকার ফলই আজকের এই সাফল্য।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলেও তার খেলোয়াড়রা অসাধারণ একাগ্রতা, সংহতি এবং মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের এই অর্জন পুরোপুরি প্রাপ্য।

ফাইনালে নতুন চ্যালেঞ্জ

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে স্পেন। এখন শিরোপা জয়ের পথে তাদের শেষ বাধা হবে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড।

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে স্পেন কি একই কৌশলগত আধিপত্য ধরে রাখতে পারবে, নাকি প্রতিপক্ষ ভেঙে দেবে তাদের ‘অ্যানাকোন্ডা গ্রিপ’—সেই উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চেই।

বিশ্লেষণ

স্পেনের এই জয় কেবল দুই গোলের ব্যবধানের গল্প নয়; এটি আধুনিক ফুটবলে কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সংগঠন, প্রেসিং, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কীভাবে একটি দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দিতে পারে, তার বাস্তব প্রমাণ দেখাল লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। অন্যদিকে, তারকায় ভরপুর ফ্রান্স দেখিয়ে দিল—শুধু বড় নাম নয়, সঠিক কৌশল ও মাঝমাঠের আধিপত্যই শেষ পর্যন্ত বড় ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ