📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

টাওয়ার ছাড়াই মোবাইলে যোগাযোগের নতুন যুগ, বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু ডিটুসি প্রযুক্তি

 

টাওয়ার ছাড়াই মোবাইলে যোগাযোগের নতুন যুগ, বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু ডিটুসি প্রযুক্তি

টাওয়ার ছাড়াই মোবাইলে যোগাযোগের নতুন যুগ, বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু ডিটুসি প্রযুক্তি

স্টারলিংকের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চল ও সমুদ্রে মিলবে সংযোগ; সাধারণ ৪জি স্মার্টফোনেই ব্যবহার করা যাবে সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ|১০ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে ‘ডাইরেক্ট টু সেল (ডিটুসি)’ প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল টাওয়ারের আওতার বাইরে থেকেও সরাসরি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। ফলে পাহাড়ি দুর্গম এলাকা, সুন্দরবন, চরাঞ্চল কিংবা গভীর সমুদ্রে অবস্থান করেও সাধারণ স্মার্টফোনে বার্তা আদান-প্রদান করা যাবে।

এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সম্প্রতি মোবাইল অপারেটর বাংলালিংককে অনুমোদন দিয়েছে। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের সহযোগিতায় দেশের কয়েকটি দুর্গম এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক।

কীভাবে কাজ করবে ডিটুসি প্রযুক্তি

প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কে ফোনের সংকেত প্রথমে নিকটবর্তী টাওয়ারে পৌঁছায়। কিন্তু ডিটুসি প্রযুক্তিতে সেই সংকেত সরাসরি স্টারলিংকের লো-আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইটে পাঠানো হয়। এরপর স্যাটেলাইট সংকেতটি গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠায় এবং সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে বার্তা, কল বা ডেটা আদান-প্রদান সম্পন্ন হয়।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা কোনো স্যাটেলাইট ফোন বা বিশেষ ডিভাইস প্রয়োজন হবে না। সাধারণ ৪জি স্মার্টফোনই যথেষ্ট। মোবাইল টাওয়ারের কভারেজের বাইরে চলে গেলে ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করবে।

প্রথমে এসএমএস, পরে ভয়েস কল ও ইন্টারনেট

বাংলালিংক জানিয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালু হলে প্রথম ধাপে এসএমএস এবং ওটিটি (ইন্টারনেটভিত্তিক) মেসেজিং সুবিধা দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে ভয়েস কল এবং সীমিত গতির মোবাইল ডেটা সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারলিংকের নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইট পুরোপুরি সক্রিয় হলে ভবিষ্যতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সরাসরি ভয়েস কল করাও সম্ভব হবে।

দুর্গম অঞ্চলে যোগাযোগে আসবে বড় পরিবর্তন

বাংলাদেশে বর্তমানে চারটি মোবাইল অপারেটরের প্রায় ১৯ কোটি গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ কোটি মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। দেশে ২১ হাজারের বেশি মোবাইল টাওয়ার থাকলেও পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চল, দ্বীপ এবং গভীর সমুদ্রে এখনো নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুন্দরবন কিংবা বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা প্রায়ই মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যান। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে এক শিক্ষককে দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে গাছে উঠে উপস্থিতির তথ্য পাঠাতে হওয়ায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিটুসি প্রযুক্তি চালু হলে এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান মিলতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় হতে পারে বড় সহায়ক

টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, পাহাড়ধস কিংবা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে যখন মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন ডিটুসি প্রযুক্তি জরুরি যোগাযোগের নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।

বাংলালিংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, উপকূলীয় দ্বীপ ও সমুদ্র অঞ্চলে যোগাযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুত বিস্তার

বিশ্বজুড়ে ডিটুসি প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে এশিয়ায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ফিলিপাইনে। দেশটির মোবাইল অপারেটর গ্লোব টেলিকম স্টারলিংকের সহযোগিতায় বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করেছে।

সাম্প্রতিক এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় দুর্গত এলাকায় জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ডিটুসি প্রযুক্তির সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণশীল বাজারে পরিণত হবে।

আরও পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে ডিটুসি প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বিটিআরসি স্পষ্ট করেছে, বর্তমান অনুমোদন কেবল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে। এটিকে ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না।

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) নীতিমালা অনুযায়ী, মোবাইল সেবার জন্য বরাদ্দকৃত আইএমটি ব্যান্ড স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবায় ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিও কনফারেন্সে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর ডিটুসি প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চল, উপকূল, পাহাড়ি জনপদ এবং সমুদ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য এটি নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম এবং ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে ডিটুসি প্রযুক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ