📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

মাশহাদে চিরনিদ্রায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, লাখো মানুষের শোকযাত্রায় শেষ বিদায়

মাশহাদে চিরনিদ্রায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, লাখো মানুষের শোকযাত্রায় শেষ বিদায়

মাশহাদে চিরনিদ্রায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, লাখো মানুষের শোকযাত্রায় শেষ বিদায়

এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি; নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা এখনো জনসমক্ষে নন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ| ১০ জুলাই ২০২৬

তথ্যসূত্র: রয়টার্স 

জন্মভূমি মাশহাদেই শেষ ঠিকানা হলো ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজার মাজারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই দাফন ও শোকযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হলো এক সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান। তবে খামেনির মৃত্যুর পর নতুন নেতৃত্ব, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

বৃহস্পতিবার সকালে খামেনির মরদেহবাহী কফিন একটি ট্রাকে করে মাশহাদের প্রধান সড়ক অতিক্রম করে ইমাম রেজার মাজারে নেওয়া হয়। কফিনের দুই পাশে ধর্মীয় আলেমরা হেঁটে শোকযাত্রায় অংশ নেন। কালো পোশাকে শোকাহত লাখো মানুষ জাতীয় পতাকা, খামেনির প্রতিকৃতি এবং বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

দাফনের মধ্য দিয়ে ইরানজুড়ে এক সপ্তাহ ধরে চলা জানাজা, শোকযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ইরাকেও তাঁর স্মরণে শোকসভা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

যুদ্ধের ক্ষত এখনো গভীর

খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর গত মাসে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ বলে ঘোষণা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা, তবে জনসমক্ষে নেই মোজতবা

খামেনির মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর ধর্মীয় নেতাদের একটি পরিষদ তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি এখনো জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাঁর কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে মতামত জানিয়েছেন।

ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, বাবার ওপর হামলার সময় মোজতবাও গুরুতর আহত হন। মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পাওয়ার পর তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রাখা হয়েছে।

প্রতিশোধের স্লোগানে উত্তাল শোকযাত্রা

মাশহাদে অনুষ্ঠিত শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দেন। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, খামেনির মৃত্যু শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকের বিষয় নয়; বরং এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংকট মোকাবিলা করা।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

প্রায় চার দশকের নেতৃত্বের অবসান

১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে ওঠা খামেনি কোম ও মাশহাদে ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন।

১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ বছর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেন।

খামেনির দাফনের মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও তাঁর উত্তরসূরির নেতৃত্বে ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ