📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

 

তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

এক মাসেরও বেশি সময়ের বিক্ষোভের পর সরে দাঁড়ালেন মোদি সরকারের মন্ত্রী; আন্দোলনের বড় বিজয় দেখছেন বিশ্লেষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পকেট নিউজ
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)–এর প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)–এ দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে চলমান ছাত্র আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এক্সে পদত্যাগের ঘোষণা

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন,

“প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায় নিয়েছি এবং পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ঘুরিয়ে নিইনি।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রকাশ করা একটি খোলা চিঠিতেও নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন।

চিঠিতে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যেন কাজে লাগাতে না পারে, জাতীয় ঐক্য অটুট থাকে, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগ দিতে পারে—এসব বিষয় বিবেচনা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কীভাবে শুরু হয়েছিল আন্দোলন?

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট–এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–এর ব্যানারে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক কর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের তরুণ সমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা অন্যতম বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন।

তিন দফা দাবি

আন্দোলনকারীরা সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন—

  • শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

  • আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা।

  • নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রথম দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।

সরকারের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক

সংকট নিরসনে গত কয়েক দিনে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা করেন।

সেই বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দুটি দাবির বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়—

  • আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া।

  • ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।

তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।

আলটিমেটামের কয়েক ঘণ্টা পরই পদত্যাগ

আন্দোলনকারীদের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই শনিবার দুপুরে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শনিবার বিকেলে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পথে বড় পদক্ষেপ নেন তিনি।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনের চাপ, বিরোধী দলগুলোর সমর্থন এবং জনমতের ক্রমবর্ধমান চাপ সরকারকে কঠিন অবস্থানে ফেলে দেয়।

যদিও বিজেপির একাধিক সূত্র আগে জানিয়েছিল, সরকার কোনো অবস্থাতেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ মেনে নেবে না। শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়েছে।

এখন সামনে কী?

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলনের বাকি দাবিগুলোর বাস্তবায়ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে—

  • আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার,

  • ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ঘোষিত ক্ষতিপূরণ বাস্তবায়ন,

  • এবং ভবিষ্যতে ভর্তি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কী ধরনের সংস্কার আনা হবে,

এসব প্রশ্নের উত্তর এখন সরকারের কাছ থেকে জানতে চাইছেন আন্দোলনকারীরা।

সারসংক্ষেপ

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট–এর প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে গড়িয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, বিরোধী দলগুলোর সমর্থন এবং জনমতের চাপে সরকারকে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এখন নজর থাকবে নতুন শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং আন্দোলনকারীদের বাকি দাবিগুলোর বাস্তবায়নের দিকে।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ