গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আজ থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টি, উপকূলীয় জেলায় বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ
স্টাফ রিপোর্টার | পকেট নিউজ
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় আজ সোমবার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। যদিও আবহাওয়াবিদদের মতে, গভীর নিম্নচাপটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ–ওডিশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ায় বাংলাদেশের ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে উপকূলীয় জেলা এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই।
গভীর নিম্নচাপের বর্তমান অবস্থান
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-ওডিশা উপকূল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আজ থেকেই বাড়বে বৃষ্টির প্রবণতা
আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানবে না। তবে এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ থেকেই বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।
বিশেষ করে—
খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকা
চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু অঞ্চল
ঢাকা ও আশপাশের এলাকা
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো
এসব স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
ভারী বৃষ্টি হলেও অতি ভারী হওয়ার সম্ভাবনা কম
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী—
৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে ভারী বৃষ্টি হিসেবে ধরা হয়।
৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে সেটি অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে, তবে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
সাম্প্রতিক বন্যার অভিজ্ঞতা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
চলতি মাসের শুরুতে টানা বর্ষণে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। প্রবল বর্ষণের কারণে অন্তত নয়টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং কৃষিজমিরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়।
সে অভিজ্ঞতার কারণে নতুন করে গভীর নিম্নচাপের খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করলেও আবহাওয়া বিভাগ বলছে, এবার পরিস্থিতি আগের মতো ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
উপকূল ও নদীবন্দরগুলোতে সতর্কতা
গভীর নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র ও নদীতে স্বাভাবিকের তুলনায় ঢেউ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই—
মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিন অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নৌযান চলাচলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি ও নগর ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতির প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা এড়াতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
গভীর নিম্নচাপটি বাংলাদেশে বড় ধরনের দুর্যোগ সৃষ্টি করার সম্ভাবনা কম হলেও এর প্রভাবে আজ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়বে। দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হতে পারে এবং বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সতর্কবার্তা প্রকাশ করবে।


0 মন্তব্যসমূহ