📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

সমুদ্রপথের বিকল্প নয়, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষায় চীনের নতুন কৌশল

 

মালাক্কা দোটানা থেকে ‘করিডর-হেজিং’: সমুদ্রপথের বিকল্প নয়, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষায় চীনের নতুন কৌশল

মালাক্কা দোটানা থেকে ‘করিডর-হেজিং’: সমুদ্রপথের বিকল্প নয়, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষায় চীনের নতুন কৌশল

মালাক্কা প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে একাধিক করিডর, পাইপলাইন ও বন্দর নির্মাণে জোর বেইজিংয়ের; বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ কি বদলে দিচ্ছে চীনের কৌশল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ| ১৬ জুলাই ২০২৬

বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এখনো সমুদ্রপথ। বিশ্বের অধিকাংশ জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্যপণ্য এবং খাদ্যশস্য প্রতিদিন হাজার হাজার জাহাজে করে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে পৌঁছে যাচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হরমুজ, সুয়েজ ও মালাক্কা প্রণালিকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্ববাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। আর সেই বাস্তবতায় চীন ধীরে ধীরে এমন একটি কৌশল বাস্তবায়ন করছে, যার লক্ষ্য সমুদ্রপথকে প্রতিস্থাপন করা নয়; বরং বিকল্প সংযোগব্যবস্থা গড়ে তুলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও সহনশীল করে তোলা।

বিশেষজ্ঞরা এই কৌশলকে বলছেন ‘করিডর-হেজিং’ (Corridor Hedging)—যেখানে একটি পথের ওপর অতিনির্ভরশীল না থেকে একাধিক সমুদ্র ও স্থল করিডর, পাইপলাইন এবং রেলপথের মাধ্যমে ঝুঁকি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

সমুদ্রপথ কেন এখনো বৈশ্বিক বাণিজ্যের মূল ভিত্তি?

বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম এখনো সমুদ্রপথ। একটি বড় কনটেইনার জাহাজ বা সুপার ট্যাংকার একবারে যে পরিমাণ পণ্য পরিবহন করতে পারে, সেই একই পরিমাণ পণ্য পরিবহনের জন্য হাজার হাজার ট্রাক কিংবা অসংখ্য ট্রেনের প্রয়োজন হয়।

শুধু পরিবহন সক্ষমতাই নয়, ব্যয়ের দিক থেকেও সমুদ্রপথ সবচেয়ে সাশ্রয়ী। কয়েক দশক ধরে বিশ্বের প্রধান বন্দর, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক বীমা, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিয়ম এবং আর্থিক অবকাঠামো মিলিয়ে যে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে, তার সমমানের কোনো স্থলভিত্তিক ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি।

এ কারণেই বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের কয়েক দশকেও সমুদ্রপথের বিকল্প তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

হরমুজ নয়, কেন মালাক্কাই চীনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ?

চীনের কৌশলগত আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় মালাক্কা প্রণালি

উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল প্রথমে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে। এরপর সেই তেলের বড় অংশ মালাক্কা প্রণালি হয়ে দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে চীনে পৌঁছে।

একইভাবে আফ্রিকা, ব্রাজিল কিংবা লাতিন আমেরিকা থেকে আসা অধিকাংশ জ্বালানি ও পণ্যও শেষ পর্যন্ত মালাক্কা প্রণালি ব্যবহার করেই পূর্ব এশিয়ায় যায়।

অর্থাৎ, তেলের উৎস বৈচিত্র্যময় হলেও পরিবহনপথের বড় অংশ একটি সংকীর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরশীল।

কী এই ‘মালাক্কা ডিলেমা’?

২০০৩ সালে চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও প্রথম প্রকাশ্যে যে উদ্বেগের কথা বলেছিলেন, সেটিই পরে ‘মালাক্কা ডিলেমা’ নামে পরিচিতি পায়।

এর মূল বক্তব্য ছিল—যদি কোনো কারণে মালাক্কা প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়, তাহলে চীনের শিল্প, অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা একযোগে সংকটে পড়তে পারে।

মালাক্কা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক পথ। প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২.৮ কিলোমিটার প্রশস্ত, ফলে সামরিক সংঘাত, দুর্ঘটনা কিংবা অবরোধের ঝুঁকি সব সময়ই বিবেচনায় রাখতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

চীনের উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ ভূরাজনীতি।

মালাক্কা আন্তর্জাতিক জলপথ হলেও ভারত মহাসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নৌ উপস্থিতি এবং তার মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা বেইজিংকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

চীনের আশঙ্কা, বড় ধরনের সংঘাত দেখা দিলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।

যদিও বাস্তবে এমন অবরোধ কতটা সম্ভব, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকিকে সামনে রেখেই চীন বিকল্প সংযোগব্যবস্থা তৈরিতে জোর দিচ্ছে।

‘করিডর-হেজিং’: চীনের নতুন কৌশল

অর্থনীতিতে বিনিয়োগকারীরা যেমন ঝুঁকি কমাতে সব অর্থ একটি খাতে রাখেন না, তেমনি চীনও এখন তার বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ একটি মাত্র পথের ওপর নির্ভরশীল রাখতে চায় না।

এই ধারণাকেই বলা হচ্ছে করিডর-হেজিং

এর মূল লক্ষ্য—

  • সমুদ্রপথের পাশাপাশি বিকল্প স্থলপথ তৈরি করা।

  • বিভিন্ন অঞ্চলে রেল, সড়ক, পাইপলাইন ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ।

  • যুদ্ধ, অবরোধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা।

  • বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি কমানো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সমুদ্রপথের বিকল্প নয়; বরং সমুদ্রভিত্তিক বিশ্বায়নের পরিপূরক কৌশল।

চীন-মিয়ানমার করিডর: মালাক্কার বিকল্পের প্রথম ধাপ

চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি হলো চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (CMEC)

রাখাইনের কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে তেল ও গ্যাস পাইপলাইন, সড়ক এবং রেলপথের মাধ্যমে চীনের ইউনান প্রদেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেল বঙ্গোপসাগর হয়ে সরাসরি কিয়াউকফিউ বন্দরে পৌঁছে পাইপলাইনের মাধ্যমে চীনে যেতে পারে। এতে পুরো মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করার প্রয়োজন পড়ে না।

গওয়াদর বন্দর ও সিপিইসি

একই কৌশলের অংশ চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC)

পাকিস্তানের গওয়াদর বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই করিডর আরব সাগরের সঙ্গে পশ্চিম চীনের সংযোগ তৈরি করছে।

যদিও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটি এখনো সমুদ্রপথের পূর্ণ বিকল্প নয়, তবে সংকটকালে এটি একটি কার্যকর বিকল্প প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মধ্য এশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন

চীনের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মধ্য এশিয়া থেকে সরাসরি গ্যাস আমদানি।

তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান এবং উজবেকিস্তান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরাসরি পশ্চিম চীনে পৌঁছায়।

ফলে সমুদ্রপথে কোনো বিঘ্ন ঘটলেও জ্বালানির একটি বড় অংশ বিকল্প উৎস থেকে পাওয়া সম্ভব হয়।

বাংলাদেশের জন্যও নতুন প্রস্তাব

সম্প্রতি চীন বাংলাদেশের কাছে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর (CMBEC) গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটিও চীনের বৃহত্তর করিডর-হেজিং কৌশলের অংশ।

বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হওয়ায় ভবিষ্যতে এই করিডর আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

সমুদ্রপথের বিকল্প নয়, সহায়ক ব্যবস্থা

বিশ্বজুড়ে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI), ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর (INSTC), ট্রান্স-কাস্পিয়ান রুট কিংবা সিপিইসি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও বাস্তবতা হলো—এসব করিডরের কোনোটিই সমুদ্রপথের বিকল্প নয়।

বরং এগুলোর সম্মিলিত উদ্দেশ্য হলো সংকটের সময় বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল রাখা।

বিশ্লেষণ: বদলে যাচ্ছে কৌশলগত প্রতিযোগিতার ধরন

একসময় বলা হতো, যে শক্তি সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করবে, ভবিষ্যৎ তার হাতে।

কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই সমীকরণ পরিবর্তিত হচ্ছে।

এখন কৌশলগত সুবিধা নির্ভর করছে—কে সবচেয়ে বেশি কার্যকর বিকল্প সংযোগব্যবস্থা তৈরি করতে পারছে এবং যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা কিংবা ভূরাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও কে তার সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে পারছে।

চীনের ‘করিডর-হেজিং’ কৌশল মূলত সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। বেইজিং বুঝে গেছে, আগামী বহু বছর বৈশ্বিক বাণিজ্যের মূল ভিত্তি সমুদ্রপথই থাকবে। তাই সমুদ্রপথকে প্রতিস্থাপন নয়, বরং তার পাশাপাশি বিকল্প করিডরের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেই ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করতে চায় চীন।

এ কারণে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুধু সমুদ্র নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং কে কত দ্রুত বিকল্প বাণিজ্য ও জ্বালানি করিডর সক্রিয় করতে পারে, সেটিও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...


নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ