গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা, উপকূলে থাকতে পারে ভারী বর্ষণ
ঢাকাসহ একাধিক বিভাগে মেঘলা আকাশ, তাপমাত্রা কমেছে; বন্দরে বহাল ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
স্টাফ রিপোর্টার | পকেট নিউজ
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ স্থলভাগে উঠে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ–ওডিশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হলেও এর প্রভাব এখনো বাংলাদেশে বিদ্যমান। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী অন্তত দুই দিন বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপটি বাংলাদেশে সরাসরি বড় ধরনের দুর্যোগ সৃষ্টি না করলেও এর প্রভাবে আকাশ মেঘলা থাকবে, তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাবে এবং উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে সমুদ্র উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে।
ঢাকার আকাশ মেঘলা, দুপুরের পর বৃষ্টির সম্ভাবনা
মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল ঘন মেঘে ঢাকা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দিনের প্রথমভাগে সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরের পর রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশা অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপর আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ করবে এবং বৃষ্টিপাত হতে পারে।
তিনি বলেন, বুধবার রাজধানীর আকাশ পুরোপুরি মেঘাচ্ছন্ন নাও থাকতে পারে, তবে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ছয় বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। যদিও অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা কম, তবুও কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপের কারণে সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প দেশের ওপর প্রবেশ করছে। ফলে আকাশে মেঘের ঘনত্ব বাড়ছে এবং বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তাপমাত্রা কমেছে, স্বস্তি ফিরছে
গত কয়েক সপ্তাহের তীব্র গরমের পর বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে।
সোমবার রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, মেঘলা আকাশ ও দক্ষিণ দিক থেকে প্রবাহিত ঠান্ডা বাতাসের কারণে আগামী কয়েক দিন দেশের অধিকাংশ এলাকাতেই গরমের তীব্রতা কিছুটা কম থাকবে।
সতর্ক রয়েছে সমুদ্রবন্দর
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
যদিও নিম্নচাপটি বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না, তারপরও এর প্রভাবে সাগরে দমকা হাওয়া ও উত্তাল পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চলতি মাসে ভয়াবহ বৃষ্টির স্মৃতি
জুলাই মাসের প্রথমার্ধেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণের কারণে বড় ধরনের দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছিল।
অবিরাম বৃষ্টিতে দেশের অন্তত ৯টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। পাহাড়ধস, বন্যা ও বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ৫৯ জনের প্রাণহানি ঘটে।
একই সঙ্গে কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়। বিভিন্ন জেলায় আমন ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পানিতে তলিয়ে গিয়ে হাজারো কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে সৃষ্ট নিম্নচাপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এবার পরিস্থিতি আগের মতো ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মাসের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি, আগস্টে কমতে পারে
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এই বৃষ্টিপাত হবে থেমে থেমে, টানা নয়।
আগামী ১ আগস্ট থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে বলে ধারণা করছে আবহাওয়া বিভাগ।
আবহাওয়া বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, গভীর নিম্নচাপটি সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত না হানলেও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে দেশের ওপর এর পরোক্ষ প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দেশের অন্যান্য এলাকায় মূলত মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বন্যা বা অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা না থাকলেও স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার কারণে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও মৌসুমি আবহাওয়ার আচরণ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। তাই স্বল্পমাত্রার আবহাওয়া ব্যবস্থাও দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে স্থানীয়ভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে নিয়মিত আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলাই হবে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


0 মন্তব্যসমূহ