📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

টোলে লোকসান, আয় বাড়াতে কর্ণফুলী টানেলের বিলাসবহুল অতিথিশালা ২৯ বছরের জন্য ইজারার উদ্যোগ

টোলে লোকসান, আয় বাড়াতে কর্ণফুলী টানেলের বিলাসবহুল অতিথিশালা ২৯ বছরের জন্য ইজারার উদ্যোগ


টোলে লোকসান, আয় বাড়াতে কর্ণফুলী টানেলের বিলাসবহুল অতিথিশালা ২৯ বছরের জন্য ইজারার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ| ৯ জুলাই ২০২৬

দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প কর্ণফুলী টানেল প্রত্যাশিত যানবাহন না পাওয়ায় টোল আদায়ে বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে। মাসে কোটি কোটি টাকা লোকসান সামাল দিতে এবার প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বিলাসবহুল অতিথিশালাসহ সার্ভিস এরিয়া ২৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সেতু বিভাগ। ইতোমধ্যে দুই দফা আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় বাতিল হলেও তৃতীয় দফায় নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

টোলে আয় কম, ব্যয় বহুগুণ বেশি

২০২৩ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ধারণা করা হয়েছিল, প্রতিদিন গড়ে ২৮ হাজার ৩৫০টি যানবাহন টানেল ব্যবহার করবে। লাভজনক হতে প্রয়োজন ছিল দৈনিক অন্তত ১৭ হাজার ৩৭৫টি যানবাহন।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বর্তমানে টানেল ব্যবহার করছে গড়ে মাত্র চার হাজার যানবাহন, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৪ শতাংশ।

এর ফলে মাসে টোল আদায় হচ্ছে গড়ে তিন কোটি টাকা, অথচ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসেই প্রায় আট কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

অতিথিশালা ইজারায় নতুন পরিকল্পনা

এই আর্থিক ঘাটতি কমাতে টানেলের দক্ষিণ প্রান্তে আনোয়ারার পারকি সৈকতসংলগ্ন ৭২ একর জায়গায় নির্মিত সার্ভিস এরিয়ার অতিথিশালা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানিয়েছেন, প্রকল্প থেকে আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই অতিথিশালা ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত মূল্য পাওয়া গেলে এটি ২৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হবে।

কী রয়েছে এই বিলাসবহুল কমপ্লেক্সে

সার্ভিস এরিয়ায় নির্মিত অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে—

  • প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুটের আধুনিক বাংলো

  • ছয়টি বিলাসবহুল কক্ষ

  • সুইমিংপুল

  • ৩০টি রেস্টহাউস

  • সম্মেলনকেন্দ্র

  • জাদুঘর

  • স্বাস্থ্যকেন্দ্র

  • হেলিপ্যাড

  • মসজিদ

  • পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

  • টানেলের রেপ্লিকা

এসব স্থাপনায় ১ হাজার ১৮২ টন ক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) স্থাপন করা হয়েছে।

দুই দফা ব্যর্থ, তৃতীয় দফায় নতুন আশা

গত বছর দুই দফা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রত্যাশিত দর পাওয়া যায়নি। বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি এবং স্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত দরও সেতু বিভাগের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম ছিল।

তৃতীয় দফায় নতুন দরপত্রে ইতোমধ্যে ১৩টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরপরই জানা যাবে, কোন প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ অর্থে ইজারা নিতে আগ্রহী।

ইজারাদারের জন্য কী সুবিধা থাকবে

দরপত্র অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান অতিথিশালার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে। তারা রুম সার্ভিস, আবাসন, রেস্তোরাঁ, সম্মেলন, পর্যটন, স্পা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সেবা পরিচালনা করতে পারবে।

তবে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা বিদ্যমান কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হলে সেতু কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

কেন আগ্রহ কম?

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অতিথিশালার কাছেই বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রায় ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণ করছে। পাশাপাশি আশপাশে এখনো পর্যাপ্ত শিল্প ও পর্যটন অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় বড় বিনিয়োগে অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কোথায়

সরকার মনে করছে, কর্ণফুলী টানেলকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্পায়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে।

সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ১৮৩ কোটি টাকার আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে টানেল হয়ে কক্সবাজার ও মাতারবাড়ীর সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই করিডর চালু হলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমবে এবং যাতায়াতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি আনোয়ারা, কর্ণফুলী ড্রাই ডক, চায়না ইপিজেড ও কোরিয়ান ইপিজেডকেন্দ্রিক শিল্পায়ন গতি পেলে টানেলের যানবাহন চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

বিশ্লেষণ

কর্ণফুলী টানেল বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি হলেও প্রত্যাশিত যানবাহন না থাকায় এটি এখন বড় আর্থিক চাপে রয়েছে। শুধু টোলের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির অংশ হিসেবে অতিথিশালা ও সার্ভিস এরিয়া ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে টানেলকে লাভজনক করতে শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলা এবং সংযোগ সড়কের উন্নয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ