📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

ভোজশালা মসজিদ–মন্দির বিতর্ক: মুসলিমপক্ষের আপিল গ্রহণ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভোজশালা–কামাল মওলা মসজিদ বিরোধ: আপিল শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস

ভোজশালা–কামাল মওলা মসজিদ বিরোধ: আপিল শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ|১৪ জুলাই ২০২৬

ভারতের বহুল আলোচিত ও স্পর্শকাতর ভোজশালা–কামাল মওলা মসজিদ বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ভোজশালাকে মন্দির হিসেবে ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে মুসলিমপক্ষের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে উভয় সম্প্রদায়কে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোজশালা প্রাঙ্গণে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। পরিবর্তে মুসলিমদের জন্য ভোজশালার পাশের একটি খোলা জায়গা নির্ধারণ করতে মধ্যপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে জুমার নামাজ আদায় করা যাবে।

সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহননের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মামলাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে বলেন, এই বিরোধে আদালতকে প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।

আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন—

  • ভোজশালা–কামাল মওলা কমপ্লেক্সে আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন করতে পারবে না ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্থা (এএসআই)।

  • মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়মিত শুনানির মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে হবে।

কী নিয়ে এই বিরোধ?

মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ভোজশালা বহু বছর ধরেই হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, এটি রাজা ভোজ প্রতিষ্ঠিত বিদ্যার দেবী সরস্বতীর একটি প্রাচীন মন্দির। অন্যদিকে মুসলিমদের দাবি, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং সেখানে নামাজ আদায়ের ঐতিহাসিক অধিকার রয়েছে।

এই দ্বৈত দাবির কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।

২০০৩ সালের ব্যবস্থা কী ছিল?

ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্থা (এএসআই) ২০০৩ সালে একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করে, যার আওতায়—

  • মঙ্গলবার হিন্দুরা পূজা করতে পারতেন।

  • শুক্রবার মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করতেন।

দীর্ঘদিন এই ব্যবস্থাই কার্যকর ছিল।

হাইকোর্টের রায়ে বদলে যায় পরিস্থিতি

চলতি বছরের মে মাসে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ২০০৩ সালের সেই ব্যবস্থা বাতিল করে ভোজশালাকে মন্দির হিসেবে উল্লেখ করে রায় দেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সেখানে সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং দেবী সরস্বতীর মন্দির থাকার ঐতিহাসিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এই রায়ের পর মুসলিমপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে এবং নামাজ আদায়ের অধিকার বহাল রাখার আবেদন জানায়।

এএসআই জরিপ কী বলছে?

বিতর্কিত স্থাপনাটি নিয়ে ২০২৪ সালের মার্চে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে এএসআই বৈজ্ঞানিক জরিপ শুরু করে।

৯৮ দিনব্যাপী ওই জরিপ শেষে প্রায় দুই হাজার পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে সংস্থাটি দাবি করে—

  • বর্তমান স্থাপনার আগে সেখানে একটি বৃহৎ প্রাচীন স্থাপনা ছিল।

  • বর্তমান ভবনের বিভিন্ন অংশে পূর্ববর্তী স্থাপনার স্থাপত্য উপাদান পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে।

  • উদ্ধার হওয়া ভাস্কর্য, মুদ্রা ও শিলালিপি একটি মন্দিরের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়।

হিন্দুপক্ষ এই প্রতিবেদনকে তাদের দাবির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মুসলিমপক্ষের আপত্তি

অন্যদিকে মুসলিমপক্ষ আদালতে দাবি করেছে, এএসআইয়ের প্রতিবেদন নিরপেক্ষ নয় এবং এটি একপাক্ষিকভাবে হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।

তাদের মতে, বহু শতাব্দী ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত স্থাপনাটির ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা ঐতিহাসিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মামলার বর্তমান অবস্থা

সুপ্রিম কোর্ট আপিল গ্রহণ করলেও এখনো মূল বিরোধের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।

বর্তমানে কার্যকর নির্দেশনাগুলো হলো—

  • মুসলিমরা মূল স্থাপনার ভেতরে নয়, পাশের নির্ধারিত খোলা জায়গায় শুক্রবারের জুমার নামাজ আদায় করতে পারবেন।

  • এএসআই আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো নির্মাণ বা পরিবর্তন করতে পারবে না।

  • মামলার দ্রুত শুনানি হবে এবং আদালত উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষণ

ভোজশালা–কামাল মওলা মসজিদ বিরোধ ভারতের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে স্পর্শকাতর মামলাগুলোর একটি। একদিকে প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় চর্চা ও সাংবিধানিক অধিকার—এই দুই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই আইনি লড়াই এগোচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট আপিল গ্রহণ করায় এখন মামলাটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। চূড়ান্ত রায় শুধু ভোজশালা–কামাল মওলা কমপ্লেক্সের ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, বরং ভারতের অন্যান্য ধর্মীয়-ঐতিহাসিক স্থাপনা সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...


নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ